জ্যোতিষী না কি AI? ২০২৭-এর জন্য অখিলেশের হাতে কোন ‘গোপন মন্ত্র’? ফাঁস করলেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ২০২৭-এর মহারণ নিয়ে এখনই পারদ চড়াতে শুরু করলেন সমাজবাদী পার্টি (SP) প্রধান অখিলেশ যাদব। বুধবার এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে অখিলেশ যেন এক রহস্যময় এবং কৌতূহলী গল্পের ঝুলি খুলে বসলেন। ২০১২ সালে যেভাবে তিনি রাজ্যে সরকার গঠন করেছিলেন, ২০২৭ সালেও সেই একই ‘জাদুকরী ফর্মুলা’ প্রয়োগ করে ক্ষমতায় ফিরবেন বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে এবারের লড়াইয়ে অখিলেশের হাতিয়ার কেবল রাজনৈতিক রণকৌশল নয়, বরং তাতে যুক্ত হয়েছে ‘এআই পণ্ডিত’ (AI Pandit) এবং আধ্যাত্মিক সংযোগের এক অদ্ভুত মিশেল।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে অখিলেশ অত্যন্ত হালকা মেজাজে হেসে বলেন, “আমার একজন অত্যন্ত জ্ঞানী জ্যোতিষী আছেন…”। তাঁর এই কথা শোনামাত্রই উপস্থিত সাংবাদিক ও দলীয় কর্মীদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে। কিন্তু হাসির রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। অখিলেশ জানান, যখন থেকে তিনি ভগবান কেদারেশ্বর মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন, তখন থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এআই পণ্ডিত এবং উচ্চস্তরের ঋষিরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এমনকি গত মঙ্গলবারই একজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং রহস্যময় ব্যক্তি সপা দলীয় কার্যালয়ে এসেছিলেন বলে তিনি জানান।
অখিলেশের দাবি অনুযায়ী, এই রহস্যময় ব্যক্তি মানুষের মনের কথা অনায়াসেই পড়ে ফেলতে পারেন। তিনি বলেন, “সেই ব্যক্তি আমার ছাড়াও এখানে উপস্থিত আরও তিনজনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এবং নির্ভুলভাবে তাঁদের মনের অবস্থা বর্ণনা করেছেন।” এখানেই শেষ নয়, বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে অখিলেশ বলেন, গেরুয়া শিবিরের অন্দরে কার সাথে কার যোগাযোগ রয়েছে বা কারা গোপনে তাঁর সাথে যোগাযোগ রাখছেন, তাও এই আধ্যাত্মিক সূত্রের মাধ্যমে তিনি খুঁজে বের করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অখিলেশ যাদব একদিকে যেমন ২০১২-র সেই ঐতিহাসিক জয়ের আবেগ উসকে দিচ্ছেন, অন্যদিকে ‘এআই’ ও ‘জ্যোতিষের’ কথা বলে এক নতুন ধরনের প্রচার কৌশল বা ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করতে চাইছেন। মন্দির নির্মাণ এবং আধ্যাত্মিকতার সংযোগ ঘটিয়ে তিনি সম্ভবত বিজেপির হিন্দুত্ব তাসের পাল্টা চাল দিচ্ছেন। রহস্যময় সেই ‘মনের কথা পড়া’ ব্যক্তির কথা বলে তিনি আদতে রাজনৈতিক মহলে এবং প্রতিপক্ষ শিবিরে একটি ভয়ের আবহ তৈরি করতে চাইছেন কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ২০২৭-এর নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, অখিলেশের এই ‘গোপন ফর্মুলা’ উত্তরপ্রদেশের মাটিতে কতটা কাজ দেয়, এখন সেটাই দেখার।