দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলায় বিস্ফোরণ-কাণ্ডের তদন্তে নেমে এনআইএ-র জালে বড়সড় রহস্য। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাদের তল্লাশি অভিযানের ২৪ ঘণ্টা আগেই এলাকা ছেড়েছেন তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ-র আশঙ্কা, শওকত মোল্লা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করছেন।
তদন্তে কী উঠে এল? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এলাকা ছাড়ার সময় শওকতের হাতে দুটি ব্যাগ ছিল। ওই ব্যাগে কী ছিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এছাড়া তাঁর ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস ও লোকেশন ট্র্যাক করে এনআইএ নিশ্চিত হয়েছে যে, তল্লাশি অভিযানের ঠিক আগেই তিনি উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন।
সীমান্তে বাড়ল সতর্কতা: শওকতের এই গতিবিধিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। তিনি যেহেতু সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করেছেন, তাই তাঁর দেশ ছাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই আশঙ্কায় বিএসএফ (BSF)-কে বিশেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিস্ফোরণ-কাণ্ডের সূত্র: গত ১৯ মার্চ বিধানসভা ভোটের আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার চালতাবেড়িয়ার বামুনিয়ায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার তদন্তেই এনআইএ জীবনতলায় তল্লাশি চালায়। কিন্তু তল্লাশির সময় শওকত মোল্লার নাগাল পাওয়া যায়নি। তারপর থেকেই তিনি কার্যত তদন্তকারীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রযুক্তিগত তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এনআইএ এখন শওকতের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে মরিয়া।
শওকত মোল্লা কি ইতিমধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে পাড়ি দিয়েছেন, নাকি দেশের ভেতরেই লুকিয়ে রয়েছেন—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।





