অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th CPC) নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। ভারত সরকারের এই নতুন উদ্যোগ ৫০ লক্ষেরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৭০ লক্ষ পেনশনভোগীর জীবনে আর্থিক আমূল পরিবর্তনের সূচনা করতে চলেছে। কমিশনের ওপর দায়িত্ব পড়েছে বেতন, ভাতা এবং পেনশনের সামগ্রিক কাঠামো পর্যালোচনা ও পুনর্গঠনের।
কবে থেকে মিলবে সুবিধা?
কমিশনকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাসের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত সুপারিশ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে আসতে পারে, তবে সুখবর হলো—সংশোধিত বেতন কাঠামো ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে কর্মীরা জানুয়ারি থেকে বকেয়া পাওনা নিশ্চিতভাবেই পাবেন।
পদ্ধতিগত অগ্রগতি ও সময়সীমা বৃদ্ধি
কর্মচারী ও পেনশনভোগী সংগঠনগুলোর আবেদনের গুরুত্ব বুঝে সরকার স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময়সীমা ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। কমিশন বর্তমানে দেশজুড়ে আঞ্চলিক বৈঠক করছে। নয়াদিল্লি, হায়দ্রাবাদ, শ্রীনগর ও লাদাখের পর এবার লখনউ ও কলকাতার কর্মীদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনার পরিকল্পনা করছে প্যানেলটি। মনে রাখবেন, সমস্ত মতামত শুধুমাত্র ‘অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন পোর্টাল’-এর মাধ্যমে ডিজিটালভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও বেতন বৃদ্ধির সমীকরণ
বেতন কমিশনের সবচেয়ে চর্চিত বিষয় হলো ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। ইউনিয়নগুলো ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানাচ্ছে। এটি কার্যকর হলে প্রারম্ভিক ন্যূনতম বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে একলাফে বেড়ে ৬৯,০০০ টাকা হতে পারে। অন্যদিকে, রেলওয়ে টেকনিক্যাল সুপারভাইজারস অ্যাসোসিয়েশন ২.৯২ থেকে ৩.৮০ গুণকের দাবি তুলেছে, যার ফলে বেতন ৫২,৬০০ টাকা হওয়ার সম্ভাবনা।
তবে আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার ২.২৮ থেকে ২.৮৬-এর মধ্যে একটি সংযত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করতে পারে। ২.২৮ ফ্যাক্টর প্রয়োগ হলেও মূল বেতন ৩৪.১% বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৪১,০০০ টাকায় পৌঁছাবে। যদি এটি ২.৮৬ হয়, তবে ন্যূনতম বেতন হবে ৫১,৪৮০ টাকা।
পেনশনভোগী ও মহার্ঘ ভাতার আপডেট
অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্যও বড় বার্তা রয়েছে। যারা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ বা তার আগে অবসর নিয়েছেন, তাদের পেনশন পুনর্গঠন করা হবে। সর্বশেষ বেতনের ৬৭% হারে ন্যূনতম পেনশনের দাবি উঠেছে। প্রস্তাবিত মডেলে ৯,০০০ টাকার প্রাথমিক পেনশন বেড়ে ২০,৫০০ থেকে ২৫,৭৪০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ডিএ (DA) মূল বেতনের সঙ্গে একীভূত করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে সরকার, তবুও ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ডিএ এবং ডিয়ারনেস রিলিফ (DR) বেড়ে ৬০%-এ পৌঁছানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এক কথায়, নতুন বছরে সরকারি কর্মীদের পকেট ভারী হতে চলেছে।





