দক্ষিণ কলকাতার দাপুটে নেতা তথা বিধায়ক দেবাশিস কুমারের বিরুদ্ধে চলা তদন্তে এবার বড় মোড় এল। বিধায়কের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে ইডি-র নজরে পড়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি রাজেন্দ্র কুমার গাংওয়াল। তিনি ‘সুমতি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিনান্স লিমিটেড’ নামক একটি বড় অর্থলগ্নি সংস্থার মালিক। গত দু’দিন ধরে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকরা।
কেন এই তলব? তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, দেবাশিস কুমারের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা ব্যক্তিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করতে গিয়ে রাজেন্দ্র গাংওয়ালের সংস্থার নাম উঠে আসে। সন্দেহ করা হচ্ছে:
বিধায়কের মাধ্যমে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ ‘কালো টাকা’ এই ফিনান্স কোম্পানির মাধ্যমে সাদা করা হয়েছে কি না।
নিয়োগ দুর্নীতির কোনো অর্থ এই সংস্থার বিভিন্ন বিনিয়োগে খাটানো হয়েছে কি না।
দেবাশিস কুমারের পরিবারের কোনো সদস্যের বা ঘনিষ্ঠের এই শিল্পপতির সংস্থায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশীদারিত্ব রয়েছে কি না।
ম্যারাথন জেরা: জানা গিয়েছে, বুধবার এবং আজ বৃহস্পতিবার—টানা দু’দিন রাজেন্দ্র গাংওয়াল ইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন। এদিন সকাল থেকেই তাঁকে দফায় দফায় জেরা করা হয়। সূত্রের দাবি, বেশ কিছু নথিতে বয়ানের অসঙ্গতি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা তাঁকে আবারও তলব করতে পারেন। বিশেষ করে কিছু ‘শেল কোম্পানি’র মাধ্যমে লেনদেন নিয়ে তাঁকে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে।
দেবাশিস কুমারের প্রতিক্রিয়া: এই বিষয়ে বিধায়ক দেবাশিস কুমার সংবাদমাধ্যমের কাছে সরাসরি মুখ না খুললেও, তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই তদন্ত চালানো হচ্ছে। ওই শিল্পপতির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকলেও সেখানে কোনো অবৈধ লেনদেন হয়নি বলেই দাবি তাঁদের।
শিল্প মহলে চাঞ্চল্য: একজনের পর একজন বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতির নাম কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার খাতায় ওঠায় কলকাতার শিল্প মহলে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যারা ব্যবসা করেন, তাঁরা এখন ইডি-র পরবর্তী পদক্ষেপের ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন।





