নন্দীগ্রামে নাটকীয় মোড়! তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শুভেন্দু, বাতিল হবে কি প্রার্থী পদ?

বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে, কিন্তু তার আগেই নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণ ওলটপালট করে দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র করের মনোনয়ন এবং নির্বাচনে লড়ার বৈধতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছেন।
শুভেন্দুর অভিযোগের তির: শুভেন্দু অধিকারীর দাবি অনুযায়ী, পবিত্র কর বর্তমানে বিজেপির টিকিটে জয়ী একজন সক্রিয় পঞ্চায়েত সদস্য। আইনত, কোনো লাভজনক পদে বা পঞ্চায়েত সদস্য পদে থেকে ইস্তফা না দিয়ে অন্য দলের হয়ে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যায় না। শুভেন্দুর বক্তব্য:
পবিত্র কর পঞ্চায়েত সদস্য পদ থেকে যথাযথভাবে ইস্তফা না দিয়েই তৃণমূলের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এই তথ্য গোপন করার ফলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানালে তাঁর প্রার্থী পদ যেকোনো মুহূর্তে বাতিল হয়ে যেতে পারে।
শুভেন্দুর মাস্টারস্ট্রোক: আশ্চর্যের বিষয় হলো, শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে তিনি এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাবেন না। তাঁর ভাষায়, “আমি ওকে রাজনৈতিকভাবে ময়দানে হারাতে চাই। প্রার্থী পদ বাতিল হয়ে গেলে সেই সুযোগ পাব না।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুভেন্দুর এক গভীর চাল, যাতে পবিত্র করকে আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে তৃণমূলের প্রচারে বড় ধাক্কা দেওয়া যায়।
পাল্টা পদক্ষেপ: শুভেন্দু নিজে অভিযোগ না করলেও সূত্রের খবর, বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আসায় ইতিমধ্যেই পবিত্র করের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নন্দীগ্রামের প্রেক্ষাপট: পবিত্র কর একসময় শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন ২০২৬-এর প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন, ঠিক সেই দিন দুপুরেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি এবং রাতারাতি নন্দীগ্রামের প্রার্থী মনোনীত হন। গত দেড় বছর বিজেপির সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না বলে স্থানীয় নেতারা দাবি করলেও, কাগজে-কলমে তাঁর ইস্তফা নিয়ে তৈরি হওয়া ধন্দই এখন নন্দীগ্রামের নির্বাচনের গতিপথ বদলে দিতে পারে।