বীরভূমের সিউড়ির পুরন্দরপুরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। লোন শোধ করেও বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন গ্রাহক। তাঁদের অভিযোগ, লোন পরিশোধ করার পর ‘নো ডিউ সার্টিফিকেট’ (No Due Certificate) পাওয়ার পরেও ব্যাঙ্ক থেকে তাঁদের বাড়িতে বকেয়া ঋণের চিঠি পাঠানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ২০২২ এবং ২০২৪ সালে ওই ব্যাঙ্ক থেকে বেশ কিছু গ্রাহক বিভিন্ন ধরনের লোন নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করে দিয়েছিলেন এবং ব্যাঙ্কের তৎকালীন ম্যানেজার তাঁদের ‘নো ডিউ সার্টিফিকেট’ও দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁদের বাড়িতে লোনের টাকা শোধ না করার চিঠি পৌঁছালে তাঁরা ব্যাঙ্কে গিয়ে আসল সত্য জানতে পারেন।
ব্যাঙ্কের বর্তমান কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই সময়ের ম্যানেজার গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তির টাকা নিয়ে তা আসল অ্যাকাউন্টে জমা না করে একটি ভুয়ো ‘শ্যাডো অ্যাকাউন্টে’ জমা করতেন। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিনি গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করতেন এবং তাঁদের ভুয়ো ‘নো ডিউ সার্টিফিকেট’ দিতেন। এই ম্যানেজার প্রায় কয়েক কোটি টাকা এভাবে আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ।
ব্যাঙ্কের এই আর্থিক প্রতারণা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নজরে আসার পর শ্যাডো অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে ওই ম্যানেজার টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছেন। ইতিমধ্যে ব্যাঙ্কের শিলিগুড়ি জোনাল অফিস থেকে ওই ম্যানেজারের নামে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে সিউড়ি থানাও গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।





