দক্ষিণেশ্বরের আড়িয়াদহ এলাকায় শনিবার রাতে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়ে পিছু হঠতে বাধ্য হন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। কালাচাঁদ মোড়ের কাছে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় এবং ওঠে ‘চোর’ স্লোগান। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে বিধায়ক তড়িঘড়ি এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন। এই ঘটনার পরেই মদন মিত্রকে নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।
ঘটনার সূত্রপাত দক্ষিণেশ্বরের বেলঘড়িয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারের প্রায় ৭০ বিঘা সরকারি জমিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, মেট্রোরেলের কাজ শেষ হওয়ার পর এই জমি দখল করে একটি বেসরকারি বাস কোম্পানির গ্যারেজ তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কামারহাটি পুরসভা তৃণমূলের আমলে এই জমি উদ্ধারের নামে লোক দেখানো পদক্ষেপ নিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টে, এই বাস কোম্পানি থেকে বিধায়ক মদন মিত্র প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলা আদায় করেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে গেরুয়া শিবির।
বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, সরকার পালাবদলের পর এই দুর্নীতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এরপরই বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে যে, দখল হওয়া এই সরকারি জমি অবিলম্বে রাজ্য সরকারকে পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং সেখানে জনস্বার্থে কোনো সরকারি প্রকল্প গড়ে তুলতে হবে।
এদিকে, শনিবার রাতের ঘটনা প্রসঙ্গে নিউজ ১৮ বাংলার তরফে বিধায়ক মদন মিত্রের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডিম ছোড়ার কথা অস্বীকার করেন। বিধায়কের দাবি, এটি সাধারণ কোনো বিক্ষোভ নয়, বরং তাঁকে খুন করার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ছক কষেছিল দুষ্কৃতীরা। ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখলাম।” যদিও মদন মিত্রের এই দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে হাসাহাসি ও পাল্টা আক্রমণের পালা।
উল্লেখ্য, অতীতেও কামারহাটি পুরসভার বিভিন্ন দুর্নীতি ও মদন মিত্রের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ একাধিকবার উঠে এসেছে। এবার সরকারি জমি দখল ও তোলাবাজির অভিযোগে স্থানীয় মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখানোয় রাজনৈতিক সমীকরণ জটিল আকার নিয়েছে। সব মিলিয়ে আড়িয়াদহের এই ঘটনায় কামারহাটির বিধায়কের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





