বিশ্বজুড়ে অস্থির জ্বালানি বাজার। একদিকে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত আর সরবরাহ উদ্বেগ, অন্যদিকে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ১২০ ডলার ছুঁয়ে ফেলা—সব মিলিয়ে দিশেহারা রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থাগুলি। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের খুচরা দাম অপরিবর্তিত থাকায় ইন্ডিয়ান অয়েল, বিপিসিএল এবং এইচপিসিএল-এর মতো সংস্থাগুলো এখন গভীর সংকটে।
সূত্রের খবর, বর্তমানে প্রতি লিটার পেট্রোলে ১৮ টাকা এবং ডিজেলে প্রায় ৩৫ টাকা লোকসান গুনছে এই সংস্থাগুলো। গত মাসে এই ক্ষতির পরিমাণ প্রতিদিন ২,৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। কেন্দ্র সরকার লিটার প্রতি ১০ টাকা আবগারি শুল্ক কমানোর ফলে দৈনিক লোকসান কমে ১,৬০০ কোটি টাকা হলেও, তাতে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্চ মাসের বিশাল লোকসানে বছরের শুরুর সব মুনাফা কার্যত ধুয়ে মুছে গেছে।
ম্যাকোয়ারি গ্রুপের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে নির্বাচন মিটলেই জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তেল আমদানিতে ভারতের নির্ভরতা বর্তমানে ৮৮ শতাংশে পৌঁছেছে। যদি বর্তমান শুল্ক কাঠামো বজায় থাকে এবং তেলের দাম আরও বাড়ে, তবে রাজকোষ ঘাটতি জিডিপির প্রায় ৩০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। নির্বাচনের ঠিক পরেই তেলের পাম্পে বড়সড় মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা।





