তৃণমূলের গড়ে নজিরবিহীন ধস! মমতার পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা রাহুলের

সোমবার পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচিত হল। ২৯৩টি আসনের ভোটগণনা শেষে দেখা যাচ্ছে, এক লহমায় বদলে গিয়েছে বাংলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনে যে দল সেভাবে দাগ কাটতে পারেনি, মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলা থেকে শহর— সর্বত্রই আছড়ে পড়েছে গেরুয়া ঝড়, যার দাপটে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছেন শাসকদলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা। খাস কলকাতায় তৃণমূলের দুর্ভেদ্য গড়েও একের পর এক ফাটল ধরিয়ে দিয়েছে পদ্ম শিবির।

তৃণমূলের এই অভাবনীয় হারের পর জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন তরজা। পরাজয়ের ক্ষত নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এদিন তিনি বলেন, “কংগ্রেসের কেউ কেউ এবং আরও অনেকে তৃণমূলের পরাজয় নিয়ে উল্লাস করছেন। তাদের এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন, অসম ও বাংলার জনরায় চুরি করাটা হল ভারতীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে বিজেপির একটি বড় পদক্ষেপ। তুচ্ছ রাজনীতি একপাশে সরিয়ে রাখুন। এটি কোনও নির্দিষ্ট একটি দল বা অন্য কোনও দলের বিষয় নয়; এটি হল ভারতের অস্তিত্বের বিষয়।”

বিজেপির এই জয়ের নেপথ্যে বড়সড় কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, প্রায় ১০০টি আসন সুপরিকল্পিতভাবে ‘চুরি’ করা হয়েছে। একই সুর শোনা গেল রাহুলের গলাতেও। সূত্রের খবর, বাংলায় ফল প্রকাশের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন রাহুল গান্ধী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসন চুরির অভিযোগের সঙ্গে পূর্ণ সহমত পোষণ করেছেন তিনি। কেবল মমতাই নন, এই বিষয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিনের সঙ্গেও কথা বলেছেন কংগ্রেসের এই সাংসদ।

সূত্রের খবর, এই নির্বাচনী বিপর্যয় এবং ভোট চুরির অভিযোগ নিয়ে খুব শীঘ্রই বৈঠকে বসতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবং ভোট চুরিকে মূল এজেন্ডা করে দেশজুড়ে প্রচারের কৌশল ঠিক করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে দিল্লিতে এই মেগা বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বৈঠকে অসম, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর ভোটের ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, পরাজয়ের এই মেঘ কাটলে ইন্ডিয়া জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ বিজেপি বিরোধী আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy