তৃণমূলের অন্দরে ফের ভাঙন? দলীয় মুখপাত্রের পদ ছাড়লেন শান্তনু সেন

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন। বৃহস্পতিবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। শান্তনু সেনের এই পদত্যাগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

ইস্তফার প্রেক্ষাপট: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শান্তনু সেনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক আরজি কর কাণ্ডের তদন্তের ক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি। এই ঘটনার পরেই মুখপাত্রের পদ থেকে তাঁর ইস্তফা দেওয়ার বিষয়টি রাজনীতির কারবারিদের কাছে বিশেষ ইঙ্গিতবাহী হয়ে উঠেছে।

চিঠিতে কী লিখেছেন শান্তনু? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো সংক্ষিপ্ত চিঠিতে শান্তনু সেন অত্যন্ত কৌশলী ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি লিখেছেন, “মানুষের রায়কে মাথা পেতে নিয়ে আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিতে চাইছি।” ভোটের ফলের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত—এই ধরণের বক্তব্য রাখলেও, তাঁর সাম্প্রতিক অবস্থান যে দলের সাথে সংঘাত তৈরি করেছিল, তা স্পষ্ট।

রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া: তৃণমূলের অন্দরে শান্তনু সেনের প্রভাব যথেষ্ট। বিশেষ করে চিকিৎসক নেতা হিসেবে তাঁর একটি আলাদা পরিচিতি রয়েছে। তবে রাজ্য সরকারের পরিবর্তনের ঠিক পরেই তাঁর এই পদক্ষেপ দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা মতপার্থক্যকে আরও প্রকট করে তুলল কি না, তা নিয়ে এখন নানা মহলে আলোচনা চলছে। এই পদত্যাগের পর তৃণমূল নেতৃত্ব বা স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী প্রতিক্রিয়া দেন, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy