তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের ‘রাজপ্রাসাদে’ হানা দিল পুলিশ! ভাইরাল ভিডিওর জের না কি অন্য কিছু?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতির আঙিনায় এখন চরম উত্তেজনা। বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা গত নির্বাচনে জয়ী হেভিওয়েট প্রার্থী দিলীপ মণ্ডলকে ঘিরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি হুমকিমূলক ভিডিওকে কেন্দ্র করে ঘনিয়ে আসা বিবাদের জেরে বৃহস্পতিবার সকালে পৈলানে অবস্থিত বিধায়কের বিশাল বাসভবনে হানা দিল পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিও থেকে, যেখানে দিলীপ মণ্ডলকে বলতে শোনা যায়, “অনেক সংযম দেখিয়েছি আমরা। ১৫ বছর শান্তিতে রেখেছিলাম। আর হবে না।” এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীরা সরব হয়। অভিযোগ ওঠে, প্রকাশ্য জনসভায় বিরোধীদের রাজনৈতিক হুমকি দিচ্ছেন বিধায়ক। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার তরফে চারটি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই চারটি ধারার মধ্যে দুটি অত্যন্ত গুরুতর এবং জামিন অযোগ্য।

বৃহস্পতিবার সকাল হতেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয় পৈলান এলাকায়। বিধায়কের বাসভবনে যখন পুলিশের দল পৌঁছয়, তখন এলাকায় ভিড় জমে যায়। স্থানীয়দের কাছে ওই বাড়িটি কার্যত এক বিস্ময়। বিশাল এলাকা জুড়ে তৈরি এই ‘রাজপ্রাসাদে’ রয়েছে চোখধাঁধানো বাগানবাড়ি, সুসজ্জিত লন, বাহারি ফোয়ারা এবং একটি সুবিশাল সুইমিং পুল। শুধু তাই নয়, বাড়ির আনাচে-কানাচে সাজানো রয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ এবং ময়ূরের বিশাল সব মূর্তি। তবে তদন্তকারীরা তল্লাশি চালালেও বাড়িতে বিধায়কের দেখা পাননি। কর্মীদের দাবি, শপথ গ্রহণের পর তিনি আর এই বাড়িতে ফেরেননি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হওয়ায় চাপ বেড়েছে দিলীপ মণ্ডলের ওপর। যদিও তৃণমূলের একাংশের দাবি, ভিডিওটির একটি অংশ কেটে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। তবে প্রশাসন এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভবিষ্যতে তদন্তের প্রয়োজনে বিধায়ককে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে বলেও পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৈলানের ওই বিলাসবহুল অট্টালিকা এবং তার মালিক দিলীপ মণ্ডল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy