বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসে শুরু হয়েছে চরম সংকট। দল পরিচালনার রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রকাশ্যে এসেছেন বিদ্রোহী বিধায়করা। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন।
বুধবার প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিবাদ নিয়ে তোপ দাগেন। তিনি সরাসরি দাবি করেন, তৃণমূল এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি বিলুপ্তপ্রায় পরিবারতন্ত্রের কাঠামোয় পরিণত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “আমি আগেই বলেছিলাম, নির্বাচনে হারলেই এই দলটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। এটা কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না, এটি ছিল একটি পরিবারকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান। এখন মানুষ ভয় কাটিয়ে বেরিয়ে আসছে।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ইডি-র তৎপরতা এবং তাকে ঘিরে দলের অস্বস্তি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আইন থেকে বাঁচার কোনো পথ নেই। পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে অনুব্রত মণ্ডল—সকলেই একসময় নাটক করেছিলেন, অসুস্থতার বাহানা দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সবাইকেই জেলে যেতে হয়েছে। অভিষেকের ক্ষেত্রেও একই পরিণতির অপেক্ষা রয়েছে।” দিলীপের অভিযোগ, গরু, বালি, পাথর ও কয়লা পাচারের মতো প্রতিটি দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ছিল অভিষেকের। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “সবাই জানে অভিষেক আদতে কিছু নয়, তবুও তাকে জোর করে মহামন্ত্রী বানানো হয়েছিল। তিনিই এই দুর্নীতির প্রধান সুবিধাভোগী।”
তৃণমূলের ভেতরেই ‘আসল তৃণমূল’ বনাম ‘মমতাপন্থী’ শিবিরের দ্বন্দ্ব নিয়ে দিলীপ ঘোষের মূল্যায়ন অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি কোনো শিবিরকেই বৈধতা দিতে রাজি নন। তার কথায়, “তৃণমূল নামটিকেও ধ্বংস করা প্রয়োজন। গত ১৫ বছর ধরে এই দলটি বাংলাকে শেষ করে দিয়েছে। এদের ভালো-খারাপ বলে কিছু নেই, পুরোটাই নকল ছিল।” বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও অন্যদের প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও বুঝিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের অস্তিত্ব এখন সংকটের মুখে।
তৃণমূলের যাবতীয় সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে দিলীপ ঘোষ বলেন, এ ধরনের তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে দল এখন পুরোপুরি কোণঠাসা। মন্ত্রী আরও দাবি করেন, আগামী দিনে এই দল থেকে সবাই বেরিয়ে যাবেন এবং শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার পরিবারের হাতেই শুধু দলটির নামটুকু অবশিষ্ট থাকবে। বিজেপির দরজা এখন বন্ধ, তাই যারা তৃণমূল ছাড়ছেন, তাদের জন্য দলটির পতন ছাড়া আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলেই মনে করছেন দিলীপ ঘোষ।





