NIA-এর তলব উপেক্ষা করা যাবে না! শওকত মোল্লা ইস্যুতে তৃণমূল নেতাকে নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে নেমে এবার সরাসরি প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়িতে হানা দিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)। বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একটি বিশেষ দল ভাঙড়ের দক্ষিণ বামুনিয়া এলাকায় শওকত মোল্লার বাসভবনে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ঘটা একটি ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এনআইএ। ওই ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তের দাবি ওঠার পর মামলাটি এনআইএ-র হাতে ন্যস্ত করা হয়। তদন্তভার গ্রহণ করার পর থেকেই এনআইএ এই মামলায় তৃণমূল নেতা ওয়াহিদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে। সেই তদন্তেরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার শওকত মোল্লার বাড়িতে তথ্য সংগ্রহের জন্য পৌঁছান কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। তল্লাশি চলাকালীন শওকত মোল্লার স্ত্রী ও কন্যাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যাওয়ার পর মুখ খুলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাপস রায় এনআইএ-র পদক্ষেপকে কার্যত সমর্থনই করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মামলায় যার নামই জড়াক না কেন, তাকে তদন্তে সহযোগিতা করতেই হবে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তলব করলে হাজিরা দেওয়া অনিবার্য। আইনের পথে বাধা সৃষ্টি করা সমীচীন নয়।” মন্ত্রীর এই মন্তব্য তৃণমূলের অন্দরে শওকত মোল্লার অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

শুধুমাত্র এই বিস্ফোরণ মামলা নয়, রাজ্যজুড়ে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাতেও নড়েচড়ে বসেছে এনআইএ। গত ২৭ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ থেকে তাজা বোমা উদ্ধারের একটি পৃথক মামলার তদন্তভারও এনআইএ নিজের হাতে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) নির্দেশে গত সোমবার সংস্থাটি নতুন করে একটি এফআইআর (RC-25/2026/NIA/DLI) দায়ের করেছে। এর আগে কলকাতা পুলিশ ভাঙড় ডিভিশনের উত্তর কাশীপুর থানা এলাকা থেকে ৭৯টি তাজা বোমা এবং বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছিল। মাঝেরহাট গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছিল।

রাজ্য পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-এর সূত্র ধরেই এখন এনআইএ সন্ত্রাসবাদী যোগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। বিএসএন (BNS) এবং বিস্ফোরক আইন অনুযায়ী অপরাধীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িতে এনআইএ-এর তল্লাশি এবং মন্ত্রীর মন্তব্যে শোরগোল পড়ে গেছে। তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy