দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলি নিয়ে বড় স্বস্তি পেল পশ্চিমবঙ্গ। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ঘোষণা করলেন, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ পুনরায় আসায় রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়নের কাজ ফের গতি পেয়েছে। তবে সবথেকে বড় সুখবর এল ১০০ দিনের কাজ এবং আবাস যোজনা নিয়ে।
১০০ দিনের কাজে নয়া দিশা: ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি এসেছে MGNREGA বা ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প নিয়ে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এই প্রকল্প ফের চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ডধারী এবার নতুন করে কাজের সুযোগ পেতে চলেছেন। প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, আগামী ১ জুলাই থেকে সারা দেশে শুরু হতে চলেছে ‘বিকশিত ভারত: গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’। এই নতুন কাঠামোয় বছরে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কাজের সুযোগ এবং কর্মহীন ভাতার মতো বড় সুবিধা থাকছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে।
আবাস যোজনায় ‘আবাস প্লাস ২০২৪’ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ প্রকল্পের আওতায় প্রকৃত উপভোক্তা চিহ্নিত করতে জোরকদমে চলছে ‘আবাস প্লাস ২০২৪’ সমীক্ষা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে, যা ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। এরপরই যাচাই-বাছাই শেষে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা।
পরিকাঠামো উন্নয়নে ২,৫০০ কোটির বিনিয়োগ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য:
২,৭৯০ কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ রাস্তা।
৪৫টি নতুন সেতু নির্মাণের নীতিগত অনুমোদন মিলেছে। প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্প কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হবে।
অন্যান্য সক্রিয় প্রকল্পসমূহ: মন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা (DAY-NRLM), রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান (RGSA) এবং জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির (NSAP) কাজও পুরোদমে শুরু হয়েছে।
একযোগে এই প্রকল্পগুলো চালু হওয়ায় গ্রামবাংলার কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত খুলবে বলে আশাবাদী প্রশাসন। কেন্দ্রীয় বরাদ্দে ফের গতি আসায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে রাজ্যের গ্রামীণ জনজীবনে।





