দেশজুড়ে শুরু হয়েছে প্রকৃতির অগ্নিপরীক্ষা। চৈত্র-বৈশাখ পার হতেই সূর্যের প্রখর তেজে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় সাধারণ মানুষের। আবহাওয়া দপ্তর ইতিমধ্য়েই দিল্লিতে জারি করেছে ‘হলুদ সতর্কতা’। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়াদের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। একদিকে ভোটের হাওয়া, অন্যদিকে লু-এর দাপট— এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে অভিভাবকরা এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন স্কুল ছুটির বিজ্ঞপ্তির দিকে।
রাজ্যে রাজ্যে ছুটির মেজাজ:
তীব্র গরমের হাত থেকে শিশুদের বাঁচাতে ছত্তিশগড়, ওড়িশা এবং কেরালার মতো রাজ্যগুলি আর ঝুঁকি নেয়নি; সেখানে ইতিমধ্য়েই ছুটি শুরু হয়ে গেছে। ওড়িশায় তো পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, আগামী ৬ মে ছুটি পড়ার কথা থাকলেও সরকার তা ১০ দিন এগিয়ে এনে আজ সোমবার থেকেই সমস্ত স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশে আবার ছুটির আগে বদলে দেওয়া হয়েছে স্কুলের সময়সূচী। গাজিয়াবাদ ও লখনউতে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ক্লাস করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের চিত্র:
দিল্লির সরকারি স্কুলগুলিতে ১১ মে থেকে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত বছরের ট্রেন্ড অনুযায়ী, এবারও প্রায় ৫০ দিনের লম্বা বিরতি পেতে পারে পড়ুয়ারা। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশে আগামী ২০ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ছুটির তালিকা চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। তবে শিক্ষকরা ছুটির কয়েকদিন আগে থেকেই স্কুলে যোগ দেবেন প্রশাসনিক কাজে।
বাংলার অবস্থা কী?
বাংলায় গরমের ছুটি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। একদিকে তাপপ্রবাহের সতর্কতা, অন্যদিকে রাজ্যে চলছে লোকসভা নির্বাচন। নির্বাচনের কারণে অনেক স্কুলকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়, ফলে আগেভাগেই ছুটি পড়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় চিন্তিত অভিভাবক মহল। ৪৪ ডিগ্রির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে পড়ুয়ারা যাতে অসুস্থ না হয়ে পড়ে, তার জন্য স্কুলগুলিতে এখন প্রতি ঘণ্টায় ‘ওয়াটার বেল’ বাজিয়ে জল পানের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে স্থায়ী সমাধান হিসেবে সবাই এখন তাকিয়ে নবান্নের সবুজ সংকেতের দিকে।





