নাম তার ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। রেশমি সোনালি চুল আর বিরল অ্যালবিনো প্রজাতির কারণে এই মোষটি সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো সেনসেশন তৈরি করেছিল। বকরি ইদে কুরবানির জন্য নির্ধারিত থাকা এই মোষটির শেষ মুহূর্তে প্রাণরক্ষা হলো সরকারি হস্তক্ষেপে। এখন থেকে তার নতুন ঠিকানা ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানা।
কেন এই নাম? বাংলাদেশের ৩৮ বছর বয়সী জিয়াউদ্দিম মৃধার কাছে ছিল এই বিরল মোষটি। মোষটির মাথার ঘন সোনালি-সাদা রেশমি চুল দেখে জিয়াউদ্দিমের ভাইয়ের মনে হয়েছিল অনেকটা প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কেশবিন্যাসের মতো। সেই থেকেই নাম রাখা হয় ‘ট্রাম্প’। মজার ছলে দেওয়া এই নামই তাকে রাতারাতি নেটদুনিয়ায় জনপ্রিয় করে তোলে।
ভাইরাল থেকে সরকারি রক্ষা: বকরি ইদ উপলক্ষে ১২ মিলিয়ন গবাদি পশুর মধ্যে কুরবানি হওয়ার তালিকায় ছিল এই মোষটিও। এমনকি ৭০০ কিলো ওজনের এই প্রাণীটিকে কসাইয়ের কাছে পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষের ঢল নামে। সেলফি তোলার হিড়িক আর সাধারণ মানুষের আকুতি দেখে শেষ পর্যন্ত নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
সরকারের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নির্দেশে ক্রেতাকে কুরবানি না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। কেরানিগঞ্জ থানার ওসি মহম্মদ রুহুল কুদ্দুস জানিয়েছেন, প্রাণীটি বিরল প্রজাতির হওয়ায় এবং জনমতের কথা বিবেচনা করে সরকার তাকে চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।
এখন কোথায় ‘ট্রাম্প’? ইতিমধ্যেই তাকে ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিড়িয়াখানার কিউরেটর আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইন পর্ব শেষ হলেই সাধারণ দর্শনার্থীরা তাকে দেখতে পাবেন। তার দেখাশোনা ও যত্নের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ কেয়ারগিভার।
সাধারণ একটি মোষ কীভাবে কেবল একটি নাম ও অদ্ভুত চেহারার জন্য ‘ভিআইপি’ স্ট্যাটাস পেল, তা নিয়ে এখনো চর্চা চলছে নেটপাড়ায়। বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে কালো মোষই বেশি দেখা যায়, সেখানে এমন অ্যালবিনো প্রজাতির মোষের রক্ষা পাওয়াটা অনেকের কাছেই এক চমৎকার ঘটনা।





