: মে মাসের তপ্ত দুপুরে যখন মানুষ স্বস্তির খোঁজ করছেন, তখনই প্রকৃতি দিচ্ছে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানাচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে নতুন করে একটি নিম্নচাপ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। যার জেরে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দক্ষিণবঙ্গসহ গোটা রাজ্যেই প্রবল ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা।
নিম্নচাপের ভ্রুকুটি ও বৃষ্টির দিনক্ষণ মৌসম ভবনের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ১১-১২ মে নাগাদ দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। ১৩ থেকে ১৬ মে-র মধ্যে এটি শক্তি বাড়িয়ে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সিস্টেমের প্রভাবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকবে, যার জেরে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে চলবে বৃষ্টি।
কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা? হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গের সবকটি জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে নিম্নোক্ত জেলাগুলিতে:
ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া: এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৫০-৬০ কিমি বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলা: কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং দুই ২৪ পরগনায় আগামী কয়েকদিন দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
উত্তরবঙ্গ: দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
আন্দামানে কি বর্ষার আগমন? আবহাওয়াবিদদের মতে, এই নিম্নচাপটি শক্তিশালী হলে তা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর পথকে প্রশস্ত করতে পারে। সাধারণত ২০ মে নাগাদ আন্দামানে বর্ষা পৌঁছালেও, এবার এই প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা আগেই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। তবে বাংলায় বর্ষা কবে ঢুকবে, তা এই নিম্নচাপের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করছে।
আপাতত মে মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত রাজ্যের সব জেলায় বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিচ্ছে আলিপুর। গরম থেকে স্বস্তি মিললেও বজ্রপাতের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।





