পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আকাশছোঁয়া সাফল্যের পর, এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং প্রশাসনিক চর্চার পারদ চড়ছে এই নতুন প্রকল্পকে ঘিরে। তবে প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ধোঁয়াশা কম নেই। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এই ৩০০০ টাকা কি সবাই পাবেন? নাকি রয়েছে বিশেষ কোনও শর্ত?
আসলে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটি মূলত প্রধান বিরোধী দল বিজেপির একটি অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, ক্ষমতায় এলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে মাসে ৩০০০ টাকা করা হবে। বর্তমানে শাসকদলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১০০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১২০০ টাকা করে পান। তার পাল্টা হিসেবেই এই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ বা ‘অন্নপূর্ণা কার্ড’-এর ঘোষণা।
কারা পাবেন এই ৩০০০ টাকা? যদিও এটি একটি প্রস্তাবিত প্রকল্প, তবুও রাজনৈতিক প্রচারের সারমর্ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শর্তের কথা উঠে আসছে:
আবাসিক যোগ্যতা: আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
বয়সসীমা: মূলত ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আর্থিক অবস্থা: মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের গৃহবধূদের প্রাধান্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পরিবার পিছু সুবিধা: সাধারণত একটি পরিবারের প্রধান মহিলা সদস্যই এই আর্থিক অনুদানের জন্য যোগ্য বিবেচিত হন।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিলি বা নাম নথিভুক্তকরণকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে মনে রাখা জরুরি, এটি বর্তমানে একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা ‘ভিশন ডকুমেন্ট’-এর অংশ। এটি সরকারিভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের অপেক্ষা রাখে।





