ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতাকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের ইতিহাসে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এক মেগা মাইলফলক স্পর্শ করে অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA) প্রকল্পের জন্য রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) বা আনুষ্ঠানিক দরপত্র জারি করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পঞ্চম প্রজন্মের এই স্টেলথ যুদ্ধবিমান তৈরির লড়াইয়ে এখন দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের তিন প্রধান শক্তি মুখোমুখি। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস, লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)-ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (বিইএল) কনসোর্টিয়াম এবং ভারত ফোর্জ-বিইএমএল অংশীদারিত্বের মধ্যে এই বৃহত্তম প্রতিরক্ষা চুক্তিটি পাওয়ার জন্য জোরদার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
দেশের প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান
ভারত কয়েক দশক ধরে তার আকাশসীমা রক্ষার জন্য বিদেশি যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরশীল ছিল। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এএমসিএ প্রকল্পটি ভারতের প্রতিরক্ষা মানচিত্রকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে চলেছে। এটি ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রথম পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। এই বিমানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর স্টেলথ প্রযুক্তি, যার ফলে এটি শত্রুপক্ষের রাডারে সম্পূর্ণ অদৃশ্য থাকবে। গত বছর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচির বাস্তবায়ন মডেলটি অনুমোদন করেছিলেন। অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এডিএ) এখন বেসরকারি শিল্পখাতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে, যাতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত বিমানটি আকাশে ওড়ানো যায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সজ্জিত আধুনিক রণতরী
ভবিষ্যতের আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে শুধু গতির প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন নিখুঁত বুদ্ধিমত্তারও। এডিএ-র নকশায় তৈরি এই যুদ্ধবিমানে স্টেলথ প্রযুক্তির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির এক অভাবনীয় মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। এই এআই ব্যবস্থা যুদ্ধ চলাকালীন পাইলটদের অতি দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। ফলে জটিল পরিস্থিতিতেও মিশনের সফলতা নিশ্চিত করা অনেক বেশি সহজ হবে।
অন্ধ্র প্রদেশে গড়ে উঠছে বিশ্বের সেরা পরীক্ষাকেন্দ্র
প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য পরিকাঠামো নির্মাণেও সরকার কোনো খামতি রাখছে না। সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু পুত্তাপার্থিতে প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘কোর ইন্টিগ্রেশন অ্যান্ড ফ্লাইট টেস্টিং সেন্টার’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এটি ভারতের এভিয়েশন খাতের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করবে। এই কেন্দ্রে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সুরক্ষাবিধি মেনে তৈরি করা হবে ভবিষ্যৎ ভারতের এই শক্তিপ্রতীক। সব মিলিয়ে, এএমসিএ প্রকল্পটি শুধু বিমানের সংখ্যাই বাড়াবে না, বরং ভারতের অ্যারোস্পেস শিল্পকে বিশ্বের দরবারে নতুন করে চিনিয়ে দেবে।





