জোড়াসাঁকোয় হারের নেপথ্যে নিজের দলেরই বিধায়ক! বিস্ফোরক তৃণমূল কাউন্সিলর মহেশ শর্মা, তোলপাড় কলকাতা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি এবার বিস্ফোরিত হতে শুরু করেছে। হারের দায় কার? এই প্রশ্নে যখন দলের অন্দরে কাদা ছোড়াছুড়ি তুঙ্গে, ঠিক তখনই কলকাতা কর্পোরেশনের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর মহেশ শর্মা সরাসরি কাঠগড়ায় তুললেন জোড়াসাঁকোর প্রাক্তন বিধায়ক বিবেক গুপ্তাকে। ইটিভি ভারতকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে কার্যত জনসমক্ষে নিয়ে এলেন।

বিবেক গুপ্তার বিরুদ্ধেই কি ডুবল জোড়াসাঁকো? কাউন্সিলর মহেশ শর্মার দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট। তাঁর মতে, জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্রে দলের এই শোচনীয় ফলের জন্য প্রধানত দায়ী প্রাক্তন বিধায়ক বিবেক গুপ্তা। মহেশ বাবুর অভিযোগ, “বিবেক গুপ্তাই আমাকে দলে এনেছিলেন, কিন্তু এখন তিনিই আমার বিরোধিতা করছেন। আমার ওয়ার্ডের কোনও কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন না, এমনকি দলীয় ব্যানারে আমার ছবি পর্যন্ত দিতে বাধা দিয়েছেন।” তাঁর সোজাসাপ্টা কথা—নেতা খারাপ হলে তার প্রভাব দলের ওপর পড়ে এবং জনতা মুখ ফিরিয়ে নেয়।

শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েও মেলেনি সাড়া দলের স্বার্থে এই বিবাদের কথা কি আগে জানানো হয়নি? মহেশ শর্মা জানিয়েছেন, তিনি হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন না। বিবেক গুপ্তার ‘অসহযোগিতা’ এবং দলের ক্ষতিকর পরিস্থিতির কথা জানিয়ে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী এমনকি খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও লিখিত চিঠি দিয়েছিলেন। উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁর আক্ষেপ, এত বড় অভিযোগ করা সত্ত্বেও উচ্চতর নেতৃত্বের তরফে কোনো পদক্ষেপ বা আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

পরাজয়ের গ্লানি ও আগামী দিনের সুর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে হার স্বীকার করলেও, মহেশ শর্মা তাঁর নিজের ওয়ার্ডের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানান, বড়বাজার এলাকায় যেখানে বিজেপি বড় ব্যবধানে লিড পায়, সেখানে তাঁর ওয়ার্ডে লড়াই হয়েছে সেয়ানে-সেয়ানে। তিনি বলেন, “আমি জনপ্রতিনিধি, মানুষের জন্য কাজ করি। নামের পাশে তৃণমূল লেখা থাক বা না থাক, কাজ করলে মানুষ পাশে থাকবেই।”

পুরভোটের আগে নতুন চ্যালেঞ্জ রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হলেও কলকাতা পুরনিগমের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এই কাউন্সিলর। তাঁর মতে, বিধানসভা আর পুরভোটের সমীকরণ আলাদা। ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বাধীন বোর্ড কলকাতার জন্য কাজ করেছে, তাই আগামী পুরভোটে মানুষ আবার তাদেরই সুযোগ দেবে বলে তিনি মনে করেন।

তবে বিধানসভা ভোটের পর জোড়াসাঁকোয় যেভাবে কাউন্সিলর বনাম প্রাক্তন বিধায়ক লড়াই প্রকাশ্যে এল, তাতে অস্বস্তি বাড়ছে ঘাসফুল শিবিরের। হারের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে এই অন্তর্কলহ মেটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ উত্তর কলকাতার তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে।

রাজনীতির সব ব্রেকিং নিউজ এবং এক্সক্লুসিভ আপডেট পেতে চোখ রাখুন ডেইলিয়ান্ট-এ। আপনার কী মনে হয়? দলের অন্তর্কোন্দলই কি তৃণমূলের হারের প্রধান কারণ? কমেন্ট করে জানান আপনার মতামত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy