আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থানের অন্যতম কারিগর এবং কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার শাপুর জাদরান বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর এক কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে তিনি একটি অত্যন্ত বিরল এবং জীবনঘাতী রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হওয়ায় সম্প্রতি তাঁর ভাই ঘমাই জাদরান সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন।
শাপুর জাদরান ‘Hemophagocytic Lymphohistiocytosis’ (HLH) নামক একটি অত্যন্ত মারাত্মক ইমিউন ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই রোগটি অত্যন্ত বিরল, যেখানে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেরই সুস্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও টিস্যুকে শত্রু মনে করে আক্রমণ করতে শুরু করে। এর ফলে রোগীর লিভার, প্লীহা এবং অস্থিমজ্জায় মারাত্মক প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং অঙ্গগুলি বিকল হতে শুরু করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শাপুরের ক্ষেত্রে এই মারণ রোগটি ইতিমধ্যে চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ইনস্টাগ্রামে একটি অত্যন্ত আবেগঘন বার্তায় ঘমাই জাদরান জানিয়েছেন যে, তাঁর ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে ‘এ পজিটিভ’ (+A) রক্তের প্রয়োজন। তিনি দিল্লির বাসিন্দাদের কাছে করজোড় অনুরোধ করেছেন যেন এই সংকটকালীন সময়ে তাঁরা রক্তদান করতে এগিয়ে আসেন। ঘমাই লিখেছেন, “প্রার্থনা ভাগ্য বদলে দিতে পারে এবং রক্ত জীবন বাঁচায়।” তাঁর এই আর্তি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়েছে এবং পুরো আফগান ক্রিকেট মহলে দুশ্চিন্তার মেঘ ঘনিয়ে এসেছে।
৩৮ বছর বয়সী এই তারকা পেসারের অসুস্থতার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ ও জটিল। গত বছরের অক্টোবর থেকেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর শরীরে যক্ষ্মা সহ একাধিক গুরুতর সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে এমআরআই এবং সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে এক ভয়াবহ তথ্য সামনে আসে যে, সংক্রমণটি তাঁর মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতে উন্নত চিকিৎসার পর তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও, মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে আবারও তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
মাঠে বল হাতে গতির ঝড় তোলা শাপুর জাদরান ২০০৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৪৪টি ওডিআই এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮০টি উইকেটের মালিক তিনি। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপের কথা ক্রিকেট ভক্তরা কোনোদিন ভুলতে পারবেন না। স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর ব্যাট থেকে আসা সেই ঐতিহাসিক জয়সূচক রানটি আজও আফগান ক্রিকেটের ইতিহাসে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে রয়েছে। আজ সেই জাতীয় বীরকে বাঁচাতে লড়াই চলছে হাসপাতালের চার দেওয়ালের মাঝে। ভক্তরা এখন কেবলই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করছেন।





