জাল নথি না কি ভুতুড়ে মালিক? শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুনের রহস্য এবার আসানসোলের বার্নপুরে!

বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার উঠে এল এক রহস্যময় অধ্যায়। তদন্তের জাল আসানসোলে বিস্তৃত হতেই বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা দেখে রীতিমতো হতবাক দুঁদে পুলিশ কর্তারাও। খুনে ব্যবহৃত একটি মোটরবাইকের সূত্র ধরে পুলিশ হীরাপুর থানার বার্নপুরের এক ঠিকানায় পৌঁছলেও, সেখানে গিয়ে মিলল চরম ধাঁধা। সরকারি নথিতে যে মালিকের নাম জ্বলজ্বল করছে, বাস্তবে সেই ব্যক্তির কোনও অস্তিত্বই খুঁজে পেল না পুলিশ।

ঠিকানায় পৌঁছতেই চরম বিস্ময় পুলিশি রেকর্ড অনুযায়ী, খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত বাইকটির (নম্বর: WB44D1990) মালিক জনৈক বিভাস কুমার ভট্টাচার্য। পশ্চিম বর্ধমান আরটিও-র নথি বলছে, ২০১২ সালে নথিভুক্ত এই বাইকটির রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ঠিকানায় লেখা ছিল— কোয়ার্টার নম্বর AB 7/12, গুরুদ্বারা রোড, বার্নপুর। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে তদন্তকারীরা সেখানে পৌঁছতেই পর্দাফাঁস হয় এক অদ্ভুত কারসাজির।

ওই কোয়ার্টারের বর্তমান বাসিন্দা ধর্মবীর কুমার জানান, তিনি ২০১৪ সাল থেকে সেখানে সপরিবারে থাকছেন। বিভাস ভট্টাচার্য নামে কাউকে তিনি চেনেনই না। এমনকি ওই কোয়ার্টারটি তাঁকে বরাদ্দ করার আগে দীর্ঘকাল খালি পড়ে ছিল। ধর্মবীরবাবুর কথায়, “নিজের বাড়ির ঠিকানা খবরের কাগজে দেখে আমি স্তম্ভিত। পুলিশকেও জানিয়েছি, এই বাইক বা ঘটনার সাথে আমার কোনও দূরতম সম্পর্ক নেই।”

ঠান্ডা মাথায় খুনের নীল নকশা তদন্তকারীদের অনুমান, ঘাতকরা অত্যন্ত পেশাদার এবং তারা ঠান্ডা মাথায় খুনের ছক কষেছিল। পুলিশের নজর ঘোরাতেই কি পরিকল্পিতভাবে কোনও ভুয়ো মালিকের নামে বাইকটি কেনা হয়েছিল, নাকি নম্বর প্লেটটিই জাল— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, খুনের আগে রীতিমতো রেইকি করা হয়েছিল। আততায়ীরা শুধু দুটি বাইকই নয়, একটি চারচাকা গাড়িও ব্যবহার করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

শিলিগুড়ি যোগ এবং আরও ধোঁয়াশা তদন্তে আরও একটি সূত্র মিলেছে শিলিগুড়ি থেকে। খুনে ব্যবহৃত একটি গাড়ির সন্ধান মিলেছে যা উইলিয়াম জোসেফ নামে এক ব্যক্তির নামে নথিভুক্ত। উইলিয়াম জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি গাড়িটি বিক্রির জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর গাড়ির নম্বর কে বা কারা অপরাধে ব্যবহার করল, সে বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অন্ধকারে।

বার্নপুরের ওই ‘ভুতুড়ে’ ঠিকানা এবং শিলিগুড়ির গাড়ি— এই দুই মেরুর রহস্য সমাধান করাই এখন বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। খুনিরা কি তবে তদন্তের জাল ছিঁড়তেই সুদূর আসানসোল বা শিলিগুড়ির পরিচয় ব্যবহার করেছিল? উত্তরের সন্ধানে রাতভর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy