রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক (PA) চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে একের পর এক হাড়হিম করা তথ্য সামনে আসছে। বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে যে কায়দায় ৪২ বছর বয়সী চন্দ্রনাথকে খতম করা হয়েছে, তার প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের হাতে আসা তথ্যপ্রমাণ বলছে— এটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং অত্যন্ত উচ্চমানের ‘প্রফেশনাল হিট’।
ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গেছে, আততায়ীরা অত্যন্ত নিখুঁত নিশানায় খুব কাছ থেকে চন্দ্রনাথের বুকে একাধিকবার গুলি চালিয়েছিল। বুলেটের আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে তা সরাসরি তাঁর হৃৎপিণ্ড ভেদ করে বেরিয়ে যায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং হৃৎপিণ্ড সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনও আসা বাকি বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
নিষিদ্ধ মারণাস্ত্র ও পেশাদার শুটার পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও বড় রহস্য। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গুলির খোল পরীক্ষা করে গোয়েন্দাদের অনুমান, হামলাকারীরা সম্ভবত অত্যাধুনিক ‘গ্লক ৪৭এক্স’ পিস্তল ব্যবহার করেছিল। এই ধরনের মারণাস্ত্র সাধারণত পেশাদার কন্ট্রাক্ট কিলার বা বিশেষ প্রশিক্ষিত অপরাধীদের কাছেই থাকে। ঘটনার ব্লু-প্রিন্টও ছিল নিখুঁত। প্রথমে একটি চারচাকা গাড়ি দিয়ে চন্দ্রনাথের স্করপিওটির পথ আটকানো হয়, এরপর বাইকে করে এসে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় শুটাররা। ঘাতকদের ব্যবহৃত গাড়ির নম্বর প্লেটটি ছিল জাল এবং চ্যাসিস ও ইঞ্জিন নম্বর পর্যন্ত ঘষে মুছে ফেলা হয়েছিল, যাতে তদন্তকারীরা কোনো সূত্র না পান।
তদন্তে সিআইডি ও ভাইরাল সিসিটিভি ঘটনার গুরুত্ব বুঝে জেলা পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নেমেছে সিআইডি (CID)। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে একটি সিসিটিভি ফুটেজ এবং কিছু মোবাইল ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গুলি চলার শব্দ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা যখন গাড়িটির দিকে ছুটে যান, তখন উইন্ডশিল্ডে একাধিক গুলির চিহ্ন। গাড়ির দরজা খুলে দেখা যায়, সামনের দুটি সিটের মাঝখানে নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন চন্দ্রনাথ। আতঙ্কিত জনতা তাঁকে কোনোমতে সিটে বসিয়ে বেল্ট দিয়ে বেঁধে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরা। তাঁর জ্ঞান ফিরলে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। শুভেন্দু অধিকারীর অতি ঘনিষ্ঠ এই কর্মীর খুনের পিছনে কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নাকি অন্য কোনো গভীর রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল।





