সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের অভিজ্ঞতা বদলে দিতে বিশ্বব্যাপী প্রিমিয়াম পেইড সাবস্ক্রিপশন পরিষেবা চালু করল মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা মেটা (Meta)। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য এবার বিশেষ ‘প্লাস’ (Plus) সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান নিয়ে এসেছে সংস্থাটি। মেটার প্রডাক্ট হেড নাওমি গ্লেইট জানিয়েছেন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুবিধা চালু করা হলেও, অদূর ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী, ক্রিয়েটর এবং মেটা এআই (Meta AI) ব্যবহারকারীদের জন্য আরও অত্যাধুনিক ফিচার যুক্ত করা হবে।
পেইড প্ল্যানের খরচ কত?
মেটা জানিয়েছে, প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের জন্য পৃথক সাবস্ক্রিপশন ফি ধার্য করা হয়েছে। আমেরিকার বাজারের জন্য নির্ধারিত মূল্যের তালিকা অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রাম প্লাস (Instagram Plus)-এর জন্য মাসিক খরচ ৩.৯৯ ডলার, ফেসবুক প্লাস (Facebook Plus)-এর জন্য ৩.৯৯ ডলার এবং হোয়াটসঅ্যাপ প্রিমিয়ামের জন্য ২.৯৯ ডলার খরচ করতে হবে।
কেন এই নতুন উদ্যোগ?
মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর এই প্রজেক্ট বাস্তবায়িত হয়েছে। সংস্থাটির মূল লক্ষ্য দুটি—প্রথমত, সাধারণ ফিচারের পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের আরও উন্নত ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরশীল আয়ের বাইরে আয়ের একটি নতুন ও টেকসই পথ তৈরি করা। মেটার মতে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্যাচুরেশনের পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাই নতুনত্ব বজায় রাখতেই এই প্রিমিয়াম পরিষেবা। তবে সংস্থার স্পষ্ট বার্তা, ‘মেটা ভেরিফাইড’ (Meta Verified)-এর সঙ্গে এই পেইড সাবস্ক্রিপশনের কোনো সম্পর্ক নেই; ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া আগের মতোই থাকবে।
কী কী বিশেষ সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারীরা?
এই প্লাস প্ল্যানগুলোতে ব্যবহারকারীরা সোশ্যাল মিডিয়ার অভিজ্ঞতায় এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করবেন।
ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক প্লাস: এই সাবস্ক্রিপশনে ব্যবহারকারীরা ‘স্টোরি রি-ওয়াচ লিস্ট’ দেখার সুযোগ পাবেন। এর ফলে পেইড সাবস্ক্রাইবাররা সহজেই জানতে পারবেন, তাদের স্টোরি কে কতবার দেখছে। এছাড়া, ২৪ ঘণ্টার সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আরও দীর্ঘ সময় ধরে স্টোরি পোস্ট করার সুবিধা মিলবে।
হোয়াটসঅ্যাপ প্রিমিয়াম: যারা ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য এটি সেরা অপশন। হোয়াটসঅ্যাপে অ্যাপ পার্সোনালাইজেশনের সুবিধা থাকছে। ব্যবহারকারীরা নিজেদের পছন্দমতো আইকন সেট করতে পারবেন, অ্যাপের থিম বা রং পরিবর্তন করতে পারবেন এবং প্রচুর অতিরিক্ত স্টিকার ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
শুধু এখানেই শেষ নয়, মেটা ভবিষ্যতে ‘মেটা ওয়ান’ (Meta One) ব্র্যান্ডিংয়ের অধীনে প্রফেশনাল ও এআই-নির্ভর প্ল্যান আনার পরিকল্পনাও করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা মেটাতেই এই প্রিমিয়াম যুগের সূচনা করল মেটা, যা আগামী দিনে ডিজিটাল যোগাযোগের জগতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।





