একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই বা এক টুকরো জমি কেনা অনেকের কাছেই আজীবনের স্বপ্ন। কিন্তু সামান্য অসাবধানতায় সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে। আবাসন শিল্পে জালিয়াতি রুখতে এবং আপনার বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখতে প্রপার্টি কেনার আগে বেশ কিছু আইনি নথি খুঁটিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।
নিচে দেওয়া হলো সেই তালিকা, যা না দেখে টাকা দেওয়া মানেই বড় বিপদের ঝুঁকি নেওয়া:
১. টাইটেল ডিড (Title Deed) ও মাদার ডিড: জমি বা ফ্ল্যাটের বর্তমান মালিকই আসল মালিক কি না, তা বুঝতে ‘টাইটেল ডিড’ যাচাই করুন। এর সঙ্গে দরকার ‘মাদার ডিড’ (Mother Deed), যা থেকে জানা যায় গত ৩০ বছরে এই প্রপার্টি কার কার হাতবদল হয়েছে। চেইন অফ ডকুমেন্টস (Chain of Documents) ঠিক না থাকলে আইনি জটিলতা অবধারিত।
২. এনকামব্রেন্স সার্টিফিকেট (Encumbrance Certificate – EC): এই সার্টিফিকেটটি প্রমাণ করে যে সম্পত্তির ওপর কোনো ঋণ বা আইনি দায় নেই। যদি সম্পত্তিটি ব্যাঙ্কে বন্ধক রাখা থাকে, তবে ইসি-তে তার উল্লেখ থাকবে। কমপক্ষে ১৫ থেকে ৩০ বছরের ইসি দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. আরইআরএ (RERA) রেজিস্ট্রেশন: পশ্চিমবঙ্গে ফ্ল্যাট কেনার আগে অবশ্যই দেখে নিন প্রকল্পটি WBRERA (West Bengal Real Estate Regulatory Authority)-র অধীনে নথিভুক্ত কি না। আরইআরএ নম্বর থাকলে প্রোমোটার বা বিল্ডার আপনাকে ঠকাতে পারবে না এবং সময়মতো ফ্ল্যাট হস্তান্তরের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে।
৪. অকিউপেন্সি ও কমপ্লিশন সার্টিফিকেট (OC & CC): ফ্ল্যাট তৈরির কাজ শেষ হলে পুরসভা বা স্থানীয় প্রশাসন ‘কমপ্লিশন সার্টিফিকেট’ দেয়। আর সেখানে বসবাস করা নিরাপদ কি না, তার প্রমাণ হলো ‘অকিউপেন্সি সার্টিফিকেট’। এই দুই নথি ছাড়া ফ্ল্যাটে ঢোকা বেআইনি হতে পারে।
৫. মিউটেশন ও ট্যাক্স রসিদ (Mutation & Tax Receipt): জমির মালিকের নামে সরকারি রেকর্ডে নাম তোলা আছে কি না (মিউটেশন) এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রপার্টি ট্যাক্স দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করুন। আপডেট করা ট্যাক্স রসিদ মালিকানা প্রমাণের অন্যতম বড় হাতিয়ার।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: শুধুমাত্র বিল্ডার বা বিক্রেতার কথায় বিশ্বাস না করে, একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীকে দিয়ে নথিপত্রগুলো (Legal Search) যাচাই করিয়ে নিন। মনে রাখবেন, সস্তায় জমি বা ফ্ল্যাট কেনার হিড়িক অনেক সময় সর্বনাশের কারণ হয়।





