পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর নবান্নের পরবর্তী দখলদার কে হতে চলেছেন, তা নিয়ে এখন গোটা রাজ্যে টানটান উত্তেজনা। এই আবহে পরাজয় মেনে না নেওয়া এবং ইস্তফা দিতে অনড় থাকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় বিঁধলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সাফ কথা, “জনতার রায়কে অপমান করবেন না।” তবে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হতে চলেছেন, সেই লাখ টাকার প্রশ্নটি কৌশলে জিইয়ে রাখলেন তিনি।
মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে সুকান্ত মজুমদার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান অবস্থানকে কটাক্ষ করে বলেন, “গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় থাকবেই। কিন্তু মানুষ যখন পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে, তখন সেই রায়কে অস্বীকার করা মানে বাংলার জনতাকেই অপমান করা।” তাঁর মতে, পরাজয় মেনে নিয়ে সম্মানজনকভাবে সরে দাঁড়ানোই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একমাত্র পথ হওয়া উচিত।
কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? সবথেকে বেশি জল্পনা শুরু হয়েছে বাংলার হবু মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে। সুকান্ত মজুমদারকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো নাম প্রকাশ না করে অত্যন্ত কৌশলী জবাব দেন। তিনি জানান, “আগামী ২৫শে বৈশাখ শপথগ্রহণের দিনই সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। বাংলার মানুষ সেদিনই জানতে পারবেন কার হাতে যাচ্ছে রাজ্যের দায়িত্ব।”
সুকান্তর এই ‘২৫শে বৈশাখ’ তত্ত্বে এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। কবিগুরুর জন্মজয়ন্তীর দিনটিকে কেন বেছে নেওয়া হলো এবং সেদিন কার মাথায় জয়ের মুকুট উঠবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। সুকান্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্ব।
২৫শে বৈশাখের অপেক্ষা: বিজেপি শিবিরের এই আত্মবিশ্বাস এবং সুকান্তর রহস্যময় জবাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, গেরুয়া শিবির ইতিমধ্যেই তাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে ফেলেছে। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা না দেওয়ার জেদ রাজ্যকে কোনো সাংবিধানিক সংকটের দিকে ঠেলে দেয় কি না, সেদিকেও নজর রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলার ইতিহাসে এই ২৫শে বৈশাখ কেবল রবীন্দ্রজয়ন্তী হিসেবেই নয়, বরং এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিন হিসেবেও চিহ্নিত হতে চলেছে কি না, এখন সেটাই দেখার। দিল্লির সবুজ সংকেত কার পক্ষে যায় এবং শেষ পর্যন্ত কে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেন, তার উত্তর মিলবে আর কয়েক দিন পরেই।





