রাজ্যের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে আজ সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে অনুষ্ঠিত হলো ‘জনতার দরবার’। টানা তৃতীয় দিনের মতো আয়োজিত এই গণশুনানিতে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনার জন্য উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা ও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত শুভেন্দু অধিকারী। সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভুক্তভোগীদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তা কর্মীদের। তবে আজকের এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন সরাসরি বিজেপি দপ্তরে হাজির হয়ে ঋদ্ধি অভিযোগের তোপ দাগেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে। শিল্পীর অভিযোগ, দীর্ঘ ১২-১৩ বছর ধরে তিনি সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে সুযোগ পাননি। তাঁর দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত ‘নেক্সাস’ বা সিন্ডিকেট কাজ করছে, যারা সরকারি অনুষ্ঠানের সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে শিল্পীদের কাছ থেকে কাটমানি ও ঘুষ দাবি করে। ঋদ্ধি বলেন, “যাঁরা হুজুর-হুজুর করে টাকা ও উপঢৌকন দিয়েছে, তাঁরাই সরকারি অনুষ্ঠানে কাজ পেয়েছে। আর যোগ্য শিল্পীদের দীর্ঘ সময় ধরে ব্যান করে রাখা হয়েছে।”
সঙ্গীতশিল্পীর অভিযোগের তীর শুধু প্রাক্তন মন্ত্রীর দিকে নয়, বরং সরকারি আধিকারিকদের দিকেও। তিনি প্রশ্ন তোলেন রবীন্দ্রসদনের মতো ঐতিহ্যবাহী সরকারি অডিটোরিয়ামগুলোর ব্যবহার নিয়েও। ঋদ্ধির কথায়, “রবীন্দ্রসদন কি কোনো ব্যক্তির বাবার সম্পত্তি যে সেখানে শুধুমাত্র পছন্দের শিল্পীরাই হল পাবে? নবান্ন থেকে নিয়ন্ত্রিত এই মনোপলি বা একাধিপত্য আমাদের শিল্পীদের জগতকে পচিয়ে ফেলেছে।” শিল্পীর আরও দাবি, সরকারি অনুষ্ঠানে যারা লবিবাজি ও কাটমানি চক্রের অংশ, তাঁরাই বর্তমানে সরকারি সুবিধা ও চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন।
এই গুরুতর অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি এবং হোয়াটসঅ্যাপ বার্তারও কোনো উত্তর দেননি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ‘জনতার দরবার’-এর মঞ্চকে ব্যবহার করে যেভাবে শিল্পীরা দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের মুখোশ খুলছেন, তা আগামী দিনে তৃণমূল সরকারের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।





