বাংলার রাজনীতির আঙিনায় তিনি এখন মধ্যগগণে। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর অবশেষে রাজপাটে বসার অপেক্ষা। কিন্তু রাজনীতির এই পোড়খাওয়া নেতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই ছোট্ট শান্ত ছেলেটি ঠিক কেমন ছিল? শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। আর সেই কৌতূহল মেটাতেই খোদ অধিকারীদের অন্দরের কথা শোনালেন শুভেন্দুর কাকিমা।
ছোট থেকেই একরোখা ও জেদি শুভেন্দুর বাল্যকালের স্মৃতি হাতড়ে তাঁর কাকিমা জানান, অধিকারী বাড়ির বড় ছেলে ছোটবেলা থেকেই ছিলেন কিছুটা অন্যরকম। তবে একটা বিষয় ছিল একদম স্পষ্ট— তাঁর জেদ। কাকিমার কথায়, “শুভেন্দু ছোট থেকেই ভীষণ জেদি ছিল। যেটা একবার করবে মনে করত, সেটা করেই ছাড়ত। ওর এই জেদই হয়তো আজ ওকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে।” তবে এই জেদ কেবল নেতিবাচক অর্থে নয়, বরং কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর যে একাগ্রতা, সেটিই ফুটে উঠত তাঁর আচরণে।
পড়াশোনায় গভীর মনোযোগ রাজনীতির ময়দানে নামার আগে শুভেন্দু ছিলেন মেধাবী ছাত্র। তাঁর কাকিমা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে ও ছিল খুবই শান্ত স্বভাবের ছেলে। বাইরের আড্ডা বা খেলাধুলোর চেয়ে বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে থাকতেই বেশি পছন্দ করত ও।” কাঁথির সেন্ট্রাল স্কুলের দিনগুলোতে তাঁর পড়াশোনার প্রতি এই নিষ্ঠা পরিবারের বড়দেরও নজর কাড়ত।
ঘরের ছেলে এখন বাংলার ‘মুখ্যমন্ত্রী’ কাঁথির শান্তিপিকুঞ্জ থেকে শুরু হওয়া সেই সফর আজ রাজভবন পর্যন্ত বিস্তৃত। কাকিমা আরও বলেন, “ও যে একদিন এত বড় হবে, সেটা আমরা আগেই আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। তবে আজ যখন ঘরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছে, তখন আনন্দ ধরে রাখা মুশকিল। ওর পরিশ্রমের ফল আজ ঈশ্বর দিয়েছেন।”
রাজনৈতিক দলাদলি বা বিরোধীদের আক্রমণ— সবকিছুকে ছাপিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই মানবিক ও ঘরোয়া দিকটি সামনে আসায় স্বভাবতই খুশি তাঁর অনুগামীরা। মাঠের নেতার আড়ালে থাকা সেই ‘জেদি’ ছাত্রটির সাফল্যের কাহিনী এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।





