দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের লুকোচুরি শেষে অবশেষে পুলিশের জালে বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। মঙ্গলবার গভীর রাতে ওড়িশা পুলিশের সহায়তায় পুরীর নিউ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ (STF)। সূত্রের খবর, ভুয়ো পরিচয়ে ওই হোটেলে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি।
কীভাবে খোঁজ মিলল বিধায়কের? গত ১৪ মে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বিধায়কের পৈলানের বাড়িতে হানা দিলেও তখন তিনি পালিয়ে যান। এরপর থেকেই রাজ্য পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে। তদন্তের মোড় ঘোরে বিধায়কের ছেলেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতারের পর। ছেলেকে জেরা করে পাওয়া তথ্য ও মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে, দিলীপ মণ্ডল রাজ্যের বাইরে আত্মগোপন করে আছেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এসটিএফ-এর বিশেষ দল তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এবং পুরীতে সফল অভিযান চালায়।
কেন এই গ্রেফতারি? ভোট পরবর্তী সময়ে একটি বিজয় মিছিল থেকে পুলিশকে প্রকাশ্যেই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। সেই মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিধায়কের একাধিক ঠিকানায় হানা দেয় পুলিশ। বাড়ির নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেনের হিসেব খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠদের ওপর নজরদারি চালানো হয়।
ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর বিধায়ককে কলকাতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এসটিএফ। তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়ে এসে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হবে বলে মনে করছে পুলিশ। বিধায়কের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের অস্ত্র-যোগের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখছে তদন্তকারী দল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের বিধায়কের এমন গ্রেফতারি এবং পলায়নপর্বের অবসান রাজ্য রাজনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।





