বিডিও অফিসে বিচারকদের আটকে রেখে হেনস্থা! মোথাবাড়িকাণ্ডে এনআইএ-র জালে আরও ১৫ জন

মালদার মোথাবাড়িকাণ্ডে তদন্তের গতি বাড়াল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। বিচারকদের ওপর ভয়াবহ হামলার ঘটনায় নতুন করে আরও ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এনআইএ সূত্রে খবর, মোথাবাড়িকাণ্ডে মোট ১২টি মামলা রুজু করা হয়েছিল। এর মধ্যে মহিলা বিচারকের ওপর হামলার ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মোথাবাড়িরই অপর একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ৩ জনকে। ধৃতদের ইতিমধ্যেই কলকাতার উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মোথাবাড়িকাণ্ডের তদন্তে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছিল। শীর্ষ আদালত এনআইএ-কে স্পষ্ট জানিয়েছিল, বিচারকদের ওপর হামলার এই ঘটনার তদন্ত ২ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হবে এবং দ্রুত চার্জশিট দাখিল করতে হবে। সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে এই মামলার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

ঘটনার সূত্রপাত মালদার মোথাবাড়িতে। সেখানে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন ব্যক্তিদের নথি যাচাইয়ের কাজে গিয়েছিলেন সাতজন জুডিশিয়াল অফিসার। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তিনজন মহিলা বিচারকও। সেই সময় বিডিও অফিসে তাঁদের দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময়ও আততায়ী ও বিক্ষোভকারীরা তাঁদের গাড়ির পিছু ধাওয়া করে এবং রাস্তায় বিভিন্নভাবে অবরোধের চেষ্টা চালায়। মাঝরাস্তায় তাঁদের গাড়ির ওপর হামলাও চালানো হয়। এই গোটা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে, যা বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ হিসেবে পরিচিত সংবিধানের ১৪২ ধারা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ আদালত নিজের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে যে কোনো ক্ষেত্রে পূর্ণ বিচার নিশ্চিত করতে পারে। যখন প্রচলিত আইনি ব্যবস্থায় কোনো ঘটনার সুরাহা করা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন এই ধারা প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে। সেই ক্ষমতা বলেই মোথাবাড়িকাণ্ডে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে এনআইএ-র এই সাঁড়াশি অভিযানে স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিচারকদের মতো সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় ধৃতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলার মূল চক্রী ও এর নেপথ্যে থাকা মদতদাতাদের খুঁজে বের করাই এখন এনআইএ-র প্রধান লক্ষ্য। মালদার এই স্পর্শকাতর ঘটনায় এনআইএ-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy