ছুটির পর স্কুল খুলতেই নতুন নিয়ম! সরকারি নির্দেশে এখন পড়ুয়াদের কণ্ঠে ‘বন্দেমাতরম’

দীর্ঘ এক মাসের গরমের ছুটির পর সোমবার থেকেই রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে ফের পড়াশোনার আমেজ ফিরে এল। তবে ছুটির শেষে স্কুল খোলার প্রথম দিনেই পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য অপেক্ষা করছিল এক নতুন নিয়ম। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, এদিন প্রতিটি স্কুলেই জাতীয় সঙ্গীত ‘জন-গণ-মন’-এর পাশাপাশি গাওয়া হলো জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দেমাতরম’। শুধু সাধারণ স্কুলই নয়, সরকারি নির্দেশ মেনে রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতেও এদিন এই নতুন নিয়ম পালন করা হয়েছে।

তবে প্রথম দিনেই এই নিয়ম বাস্তবায়নে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় স্কুলগুলিকে। অধিকাংশ পড়ুয়ারই ‘বন্দেমাতরম’ গানটি সম্পূর্ণ মুখস্থ নেই। তাই পড়ুয়াদের এই গানটির সঙ্গে অভ্যস্ত করে তুলতে এবং দ্রুত মুখস্থ করানোর জন্য অভিনব উপায় বেছে নিয়েছেন শিক্ষকরা। রাজ্যের বেশিরভাগ স্কুলেই বর্তমানে আধুনিক অডিও সিস্টেম রয়েছে। সোমবার সেই সিস্টেমের মাধ্যমেই ‘বন্দেমাতরম’ বাজানো হয়, যাতে পড়ুয়ারা সুর ও কথার সঙ্গে পরিচিত হতে পারে।

যোধপুর পার্ক স্কুলের প্রধান শিক্ষক শোভন মণ্ডল জানান, “আগে শুধু রাজ্য সঙ্গীত ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হতো। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আজ প্রথম থেকেই ‘বন্দেমাতরম’ যোগ করা হয়েছে। যেহেতু গানটি পড়ুয়াদের কাছে কিছুটা নতুন, তাই তাদের শিখতে কয়েকদিন সময় লাগবে। যতদিন না পড়ুয়ারা নিজে গাইতে পারছে, ততদিন অডিও সিস্টেমের মাধ্যমে গানটি চালিয়ে আমরা তাদের শেখানোর চেষ্টা করব।”

অন্যদিকে, নারায়ন দাস বাঙুর মাল্টিপার্পাস স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া জানান, ছুটির আগেই তিনি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে পড়ুয়াদের গানটির সফট কপি ও অডিও পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এদিন প্রার্থনার সময় অডিও সিস্টেমের সাহায্য নেওয়া হয়েছে যাতে সবাই ধীরে ধীরে রপ্ত করতে পারে। পাশাপাশি, নিয়ম পালনের প্রমাণ হিসেবে সম্পূর্ণ গান গাওয়ার ভিডিও রেকর্ড করে সংশ্লিষ্ট ডিআই-এর কাছে পাঠানোর ব্যবস্থাও করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

মাদ্রাসাগুলিতেও এই নিয়ম পালনে কোনো খামতি রাখা হয়নি। হাতিয়ারা হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক এসকার আলি জানান, তাদের আগের রীতির পাশাপাশি এখন নতুন নির্দেশ অনুযায়ী ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই এই নিয়ম মানা হয়েছে। যদিও রোদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে তিনটি গান গাইতে গিয়ে পড়ুয়াদের কিছুটা কষ্ট হয়েছে, তবুও সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমস্ত নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালনের পক্ষপাতী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। সব মিলিয়ে, রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে জাতীয় চেতনার প্রসারে এই উদ্যোগ এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy