দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে কর্ণাটকের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। ২৮শে মে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সিদ্দারামাইয়ার পদত্যাগের ঘোষণার সাথে সাথেই কর্ণাটকের মসনদে বসলেন কংগ্রেসের ‘ট্রাবলশুটার’ বা সংকটমোচনকারী ডিকে শিবকুমার। রাজ্যের কংগ্রেস সরকারের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার পর, এই পালাবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছানো শিবকুমারের এই যাত্রা মোটেও মসৃণ ছিল না; বরং তা দীর্ঘ চার দশকের কঠোর পরিশ্রম, সংগ্রাম এবং অদম্য জেদের ইতিহাস।
ছাত্রনেতা থেকে কিংমেকার:
মাত্র ১৮ বছর বয়সে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI)-তে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে ডিকের রাজনৈতিক ইনিংসের শুরু। ১৯৮১-৮৩ সালের মধ্যে বেঙ্গালুরুতে এনএসইউআই-এর জেলা সভাপতি হিসেবে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। ২৩ বছর বয়সে এইচ ডি দেবে গৌড়ার মতো অভিজ্ঞ নেতার বিরুদ্ধে প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়ে পরাস্ত হলেও, তাঁর লড়াকু মানসিকতা নজর কেড়েছিল দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। ১৯৮৭ সালে সাথানুর নির্বাচনী এলাকা থেকে জেলা পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমেই তাঁর সাফল্যের মূলমন্ত্র নির্ধারিত হয়। ১৯৮৯ সালে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে তিনি রাজনীতির মূলধারায় নিজের স্থান পাকা করেন।
৯০-এর দশকে দ্রুত উত্থান ও বিদ্রোহ:
নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই কর্ণাটকের রাজনীতিতে ডেকের প্রভাব বাড়তে থাকে। এস. বঙ্গারাপ্পা সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি এবং সরকারের অন্যতম কনিষ্ঠ মন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৯৪ সালে কংগ্রেসের সাথে মতপার্থক্যের জেরে টিকিট না পেয়েও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ে জয়লাভ করেন, যা তাঁকে দলের কাছে অপরিহার্য করে তোলে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস. এম. কৃষ্ণের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিদ্যুৎ ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলে তিনি নিজেকে দক্ষ প্রশাসক হিসেবে প্রমাণ করেন।
কেন তিনি ‘সংকটমোচনকারী’?
ডিকে শিবকুমার শুধু একজন নেতা নন, তিনি দলের একজন দক্ষ ব্যবস্থাপক। ২০১৭ সালের গুজরাট রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস বিধায়কদের দলত্যাগ রোখার লড়াই থেকে শুরু করে কর্ণাটকে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট সামলানো—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। অর্থ পাচারের অভিযোগে ইডি-র হাতে গ্রেফতার হয়ে তাঁকে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠেও কাটাতে হয়েছে। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে এসে ২০২০ সালের মার্চ মাসে কর্ণাটক কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে দলকে নতুন রূপ দেন। ২০২৩ সালের বিপুল জয় সিদ্দারামাইয়ার পাশাপাশি শিবকুমারের কৌশলী রণনীতিরই ফসল। এখন মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে কর্ণাটকের আগামী দুই বছর তিনি কীভাবে দলকে চালিত করেন, সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।





