ছয়টি গ্রামে মাছির রাজত্ব, ভনভন শব্দে নাজেহাল গ্রামবাসী, অতিষ্ঠ হয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ সাধারণ মানুষ

ছত্তিশগড়ের ধমতরি জেলার মাগারলোড উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত অর্ধ ডজনেরও বেশি গ্রাম বর্তমানে এক অস্বাভাবিক ও ভয়াবহ পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে। বিরঝুলি, কুসুমখুটা, বোদালবাহারা, কামারিনমুদা, পেন্দ্রা এবং আলেখুন্টা—এই গ্রামগুলির বাসিন্দারা মাছির ক্রমবর্ধমান উপদ্রবে রীতিমতো দিশেহারা। পরিস্থিতি এখন এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, মানুষ স্বচ্ছন্দে খেতে বা ঘুমাতেও পারছে না। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি, উঠান, এমনকি রান্নাঘরের চারপাশ ঘিরে ফেলছে মাছির বিশাল ঝাঁক।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, শিশু, বয়স্ক এবং নারীরা এই সমস্যার সবচেয়ে বেশি শিকার। খাদ্যদ্রব্যের ওপর মাছির অবাধ বিচরণ স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতাকে এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, এই অভূতপূর্ব মাছি-সঙ্কট ডায়রিয়া, টাইফয়েড এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটাতে পারে। বাড়িগুলোতে সারাদিন ধরে মাছির ভনভন শব্দ এবং তা তাড়ানোর নিরন্তর লড়াইয়ে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

এই মশা-মাছির উপদ্রবের নেপথ্যে স্থানীয়রা দায়ী করছেন গ্রামে অবস্থিত একটি বিশাল পোল্ট্রি খামার এবং হ্যাচারিকে। গ্রামবাসীদের গুরুতর অভিযোগ, প্রায় দশ একর জুড়ে বিস্তৃত এই খামারে হাজার হাজার মুরগি রয়েছে, কিন্তু সেখানে স্যানিটেশন বা বর্জ্য নিষ্কাশনের কোনো যথাযথ ব্যবস্থা নেই। খামারের মুরগির বিষ্ঠা এবং অন্যান্য বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা না করার ফলে বিপুল হারে মাছির বংশবৃদ্ধি হচ্ছে, যা বাতাস ও পরিবেশের মাধ্যমে আশেপাশের গ্রামগুলিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন যে, তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে এই বিষয়ে বারবার নালিশ জানিয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও খামার কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তায় সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ দানা বেঁধেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। জীবনযাত্রার মান তলানিতে ঠেকায় শেষ পর্যন্ত তাঁরা ধমতরি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দ্বারস্থ হয়েছেন।

ঘটনাটি গুরুতর আকার ধারণ করায় জেলা প্রশাসন শেষ পর্যন্ত নড়েচড়ে বসেছে। অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে ধামতরি কালেক্টর অবিনাশ মিশ্র পুরো বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা কালেক্টর জানিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে প্রশাসন একটি উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করেছে। এই দলটি সংশ্লিষ্ট পোল্ট্রি খামার এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো পরিদর্শন করবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পোল্ট্রি খামার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে গ্রামবাসীর আশা, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে শীঘ্রই তাঁরা এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy