শহরবাসীর অন্যতম লাইফলাইন ইএম বাইপাসের চিংড়িঘাটা মোড়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মেট্রোর কাজ এবার যুদ্ধের গতিতে শুরু হতে চলেছে। তবে এই কাজের জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থায় আমূল রদবদল করছে কলকাতা পুলিশ। মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের (নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর) পিলার নির্মাণের জন্য টানা ৬০ ঘণ্টা করে মোট দু’দফায় আংশিক যান নিয়ন্ত্রণ করা হবে চিংড়িঘাটায়। এই ১২০ ঘণ্টা বাইপাস এবং সল্টলেকগামী রাস্তায় ব্যাপক যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কবে থেকে শুরু বিধিনিষেধ? কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, প্রথম দফায় ১৫ মে (শুক্রবার) রাত ৮টা থেকে ১৮ মে (সোমবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ জারি থাকবে। দ্বিতীয় দফায় ২২ মে (শুক্রবার) রাত ৮টা থেকে ২৫ মে (সোমবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে।
প্রথম দফার রুট ম্যাপ (১৫-১৮ মে): এই পর্যায়ে চিংড়িঘাটা মোড়ের উত্তরমুখী (সল্টলেক ও বিমানবন্দরগামী) যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ইএম বাইপাসের পশ্চিম দিকের রাস্তা বন্ধ থাকবে। ফলে সল্টলেকমুখী গাড়িগুলিকে এনএক্স হোটেলের সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে নতুন তৈরি রাস্তা ব্যবহার করতে হবে। চিংড়িঘাটা উড়ালপুলে ওঠার ক্ষেত্রেও বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে দক্ষিণমুখী (গড়িয়ামুখো) যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
দ্বিতীয় দফার রুট ম্যাপ (২২-২৫ মে): এই দফায় দক্ষিণমুখী যান চলাচলে নজর দেওয়া হবে। চিংড়িঘাটা ক্রসিংয়ের পূর্ব দিক বন্ধ থাকায় সল্টলেক বা উল্টোডাঙা থেকে আসা গাড়িগুলিকে এনএক্স হোটেলের সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। দক্ষিণমুখী গাড়িগুলিকে চিংড়িঘাটা ক্রসিং থেকে ঘুরিয়ে বাইপাসের পশ্চিম দিক দিয়ে পাঠানো হবে।
নিউ টাউন ও সল্টলেকবাসীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা:
চিংড়িঘাটা ক্রসিং থেকে দক্ষিণ অভিমুখে বাঁ দিকে মোড় নেওয়া যাবে, কিন্তু উত্তরমুখে যাওয়ার জন্য ডান দিকে মোড় নেওয়া যাবে না।
উত্তরমুখী গাড়িগুলিকে মেট্রোপলিটন ক্রসিং থেকে ইউ-টার্ন নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে।
হাডকো বা কাঁকুরগাছি থেকে কোনও পণ্যবাহী গাড়িকে দক্ষিণ অভিমুখে যেতে দেওয়া হবে না।
কেন এই জরুরি পদক্ষেপ? নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের চিংড়িঘাটার এই অংশটি দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে ছিল। পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে মেট্রো কর্তৃপক্ষের মতপার্থক্যের জেরে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালতের কড়া ভর্ৎসনার পর অবশেষে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই এই কাজের সবুজ সংকেত মিলেছে। মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, মাত্র ৩১৬ বর্গমিটার এলাকায় পিলারের কাজ শেষ হলেই প্রকল্পের বড় বাধা দূর হবে। সপ্তাহের শুরুতেই যানজট এড়াতে নিত্যযাত্রীদের হাতে সময় নিয়ে বেরোনোর আবেদন জানিয়েছে প্রশাসন।





