রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বুক করার পর বাড়িতে তা পৌঁছালে আমাদের প্রথম চিন্তা থাকে রান্নার ব্যবস্থা করা। কিন্তু সেই সিলিন্ডার থেকে যদি গ্যাসের বদলে জল বের হয়, তবে অবস্থাটা কেমন হবে? উত্তরপ্রদেশের মেরঠ থেকে এমনই এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার খবর সামনে এসেছে, যা নেটদুনিয়ায় রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
ঘটনাটি মেরঠের তারাপুরি এলাকার। ফাহিম নামে এক যুবক রান্নার গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে একজন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার কাছ থেকে সিলিন্ডারটি কেনেন। সাধারণত এলপিজি সিলিন্ডারের দাম যেখানে ৯৫০ টাকার আশেপাশে, সেখানে তাঁকে গুনতে হয় প্রায় ২৫০০ টাকা। অর্থাৎ, জরুরি প্রয়োজনে তাঁকে বাজারের চেয়ে প্রায় তিনগুণ দাম দিতে হয়েছে। কিন্তু বাড়িতে এনে সিলিন্ডার সংযোগ করার পর দেখা যায়, তাতে আগুন জ্বলছে না। এরপর সিলিন্ডারটি পরীক্ষা করতে গিয়েই ধরা পড়ে আসল রহস্য।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সিলিন্ডারটি উল্টে ধরতেই তার মুখ থেকে অঝোরে জল পড়তে শুরু করেছে। ফাহিমের অভিযোগ, সিলিন্ডারের ভেতরে গ্যাসের পরিমাণ ছিল নগণ্য, বাকিটা পুরোপুরি ভর্তি ছিল সাধারণ জলে। এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নেটিজেনদের বড় অংশই একে এক বড় ধরনের অপরাধ বলে চিহ্নিত করেছেন। এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লিখেছেন, “গরিব মানুষের কষ্টের টাকা নিয়ে এভাবে প্রতারণা করার সাহস কীভাবে হয়? এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।” অনেকে আবার অবৈধ গ্যাস বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।
এই ঘটনা রান্নার গ্যাসের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং কালোবাজারি নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে যখনই সাধারণ মানুষ জরুরি প্রয়োজনে অনুমোদিত ডিলারের বাইরে অবৈধ উৎস থেকে গ্যাস কিনতে বাধ্য হন, তখনই এই ধরনের প্রতারণার শিকার হতে হয়। ঘটনাটি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ সিলিন্ডারে জল ভর্তি করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অবৈধভাবে গ্যাস ভরার সময় সিলিন্ডারের ধাতব গঠন এবং স্থায়িত্বের ক্ষতি হতে পারে, যা যে কোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও মেরঠের এই ঘটনা যেন সতর্কবার্তা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলার ছাড়া রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার কেনা শুধু আর্থিকভাবেই প্রতারণামূলক নয়, বরং জীবন সংশয়ের কারণও হতে পারে। প্রশাসন এখন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে আসল অপরাধীদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছে। অবৈধ উপায়ে যারা সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।





