উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের খোড়া কলোনিতে চাঞ্চল্যকর সূর্য চৌহান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে প্রশাসন। হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আসাদের অবৈধ সাম্রাজ্যের ওপর এবার আঘাত হানতে চলেছে জেলা প্রশাসন। এই ঘটনার সূত্র ধরে আসাদের বসতবাড়ির বাইরে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিস সাঁটিয়ে দিয়েছে প্রশাসনিক দল। প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা রাজস্ব দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে নবনীত বিহার এলাকায় অবস্থিত আসাদের বাসভবনে উপস্থিত হন। লোকসমক্ষে তারা বাড়ির দেয়ালে অবৈধ দখলের নোটিসটি টাঙিয়ে দেন। এই প্রক্রিয়াটিকে কেবল আইনি কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না রেখে, প্রশাসনের তরফ থেকে ঢোল বাজিয়ে এবং মাইকযোগে উচ্চস্বরে ঘোষণা করা হয় যে, উক্ত জমিটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। প্রশাসন ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে, যার মধ্যে অভিযুক্তকে নিজ উদ্যোগে এই অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে ফেলতে হবে।
প্রশাসনের জারি করা নোটিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত পক্ষ নিজ দায়িত্বে অবৈধ দখল সরিয়ে না নেয়, তবে জেলা প্রশাসন আইন অনুযায়ী বুলডোজার চালিয়ে তা গুড়িয়ে দেবে। শুধু তাই নয়, উচ্ছেদ বা ভাঙার কাজে যে আর্থিক খরচ হবে, তাও অভিযুক্ত আসাদের পরিবারের কাছ থেকেই আদায় করা হবে বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল দেখা দিয়েছে। নোটিস লাগানোর সময় প্রচুর মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ঘোষণা মনোযোগ সহকারে শোনেন। অনেকে স্মার্টফোনে নোটিসের ছবি তুলে রাখেন এবং ভিডিও করেন। স্থানীয়দের মধ্যে কথোপকথন থেকে বোঝা যাচ্ছে, সূর্য চৌহান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ জমে ছিল, প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে তারা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন কেবল আসাদের বাড়িটি এক পলক দেখার জন্য।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে অপরাধীদের মনে ভয় ধরানোর একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে দেখছেন ওয়াকিবহাল মহল। অতীতেও উত্তর প্রদেশে অপরাধীদের অবৈধ সম্পত্তির বিরুদ্ধে এহেন বুলডোজার নীতির প্রয়োগ দেখা গিয়েছে, যা এখন গাজিয়াবাদের খোড়া কলোনিতে পুনরুক্ত হতে চলেছে। আপাতত সকলের নজর ১৫ দিনের সময়সীমার দিকে। নির্দিষ্ট সময় পেরোনোর পর প্রশাসন সত্যিই ভাঙার কাজ শুরু করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





