মডেল তথা অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যুর তদন্তভার এখন সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইন্ডিগেশনের (সিবিআই) হাতে। পুরনো এফআইআর-এর ভিত্তিতে স্বামী সমর্থ সিং ও শাশুড়ি গিরিবালা সিং-এর বিরুদ্ধে পণপ্রথাজনিত মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে সমর্থের দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জেরা। সমর্থের দাবি, তিনি ও তাঁর মা সন্তান চেয়েছিলেন, কিন্তু ত্বিষা নিজেই গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেন। তবে তদন্তকারীদের হাতে থাকা ত্বিষার একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা সম্পূর্ণ বিপরীত ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে সমর্থ সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। এই বৈপরীত্যই তদন্তে বড় মোড় এনেছে।
ত্বিষার পরিবারের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ বাড়ানো হয়েছিল। ত্বিষার ১৫ কেজি ওজন কমে যাওয়া এবং তাঁকে দিয়ে জোর করে চাকরি ছাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও সিবিআই খতিয়ে দেখছে। সমর্থের দাবি, ত্বিষা ‘বাইপোলার ডিসঅর্ডার’-এ ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শেই ওষুধ দেওয়া হতো। তবে সেই ওষুধের প্রয়োজনীয়তা ছিল কি না এবং পরিবারকে কেন অন্ধকারে রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সমর্থের ফোন থেকে মুছে ফেলা চ্যাট। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে সেই তথ্য উদ্ধার করে সিবিআই নিশ্চিত হতে চাইছে, দিনের পর দিন মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল কি না। ঘটনার দিন জিম ও খাওয়াদাওয়ার সমর্থের বয়ান সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এখন সিবিআইয়ের মূল লক্ষ্য—এটি আত্মহত্যা নাকি সুপরিকল্পিত কোনো ষড়যন্ত্র, তা উন্মোচন করা।





