লালকেল্লার প্রাঙ্গণে দেশজুড়ে সমবেত লক্ষাধিক আদিবাসী মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হলো ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষার জয়গান। ‘জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চ’ এবং ‘অখিল ভারতীয় বনবাসী কল্যাণ আশ্রম’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মহাসমাবেশ যেন আদিবাসী সমাজের এক নতুন ‘উলগুলান’-এর সূচনা করল। উপস্থিত জনতাকে দেখে আবেগাপ্লুত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “আমি আজ লক্ষ লক্ষ আদিবাসী ভাই-বোনের মধ্যে স্বয়ং বীরসা মুণ্ডার দর্শন করছি।”
এই ঐতিহাসিক সমাবেশে লদাখ থেকে আন্দামান, অরুণাচল থেকে গুজরাট—ভারতের সাতশোরও বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দিল্লির সাধারণ নাগরিকরাও তাঁদের আতিথ্যে কোনো খামতি রাখেননি। তবে অনুষ্ঠানের মূল সুর ছিল ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি। অরুণাচলের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তিচি গুবিন থেকে শুরু করে গণেশ রাম ভগত—প্রত্যেকেই দাবি তুলেছেন, যারা ধর্ম পরিবর্তন করে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছেন, তাঁদের সরকারিভাবে ‘শিডিউল ট্রাইব’ বা আদিবাসী তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। গণেশ রাম ভগত আবেগঘন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, আদিবাসীরা শ্রীরামের বংশধর এবং ধর্মান্তরকরণের মতো অশুভ শক্তিকে রুখতে তাঁরা বদ্ধপরিকর।
বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের এই মহাযজ্ঞে আইআইটি গ্র্যাজুয়েট, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার ও অধ্যাপকদের মতো বুদ্ধিজীবীরা নিভৃতে কাজ করে চলেছেন। মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও আসামের আদিবাসী নারীদের কণ্ঠে ‘বন্দে ভারতম’ সংগীত পরিবেশনা ছিল এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমাবেশ শুধু সংস্কৃতি রক্ষার ডাক নয়, বরং আগামী দিনে ধর্মান্তরকরণের বিরুদ্ধে সরকারি কঠোর পদক্ষেপের পথ প্রশস্ত করতে পারে। আদিবাসী সমাজের এই নতুন ঐক্য ও পরাক্রম দেশজুড়ে এক শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিল।





