৪ মে, সোমবার বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা। ইভিএম বাক্স খুলে জনমত প্রকাশ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। কিন্তু তার আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে ঘটে গেল এক অভাবনীয় ঘটনা। ভোট গণনার ঠিক আগের রাতে শাসক শিবিরে যোগ দিলেন মগরাহাটের কংগ্রেস প্রার্থী। নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার আগেই প্রার্থীর এই ‘পল্টি’ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
গণনার আগের রাতে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ নাকি ‘বেইমানি’? তৃণমূলের দাবি, উন্নয়নের জোয়ারে শামিল হতেই কংগ্রেস প্রার্থী ঘাসফুলে যোগ দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, গণনার আগে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে বিরোধীদের ব্যাকফুটে ঠেলে দিতেই শাসকদলের এই পদক্ষেপ। অন্যদিকে, কংগ্রেস শিবিরের জন্য এটি বড়সড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যে প্রার্থীর জন্য দলের কর্মীরা ঘাম ঝরিয়েছেন, গণনার সকালেই তাঁর শিবির বদল নিচুতলার কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অ্যাকশন মোডে শুভঙ্কর সরকার ঘটনাটি জানাজানি হতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তিনি সরাসরি একে ‘গণতন্ত্রের অপমান’ বলে দেগে দিয়েছেন। শুভঙ্করের অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে তাঁদের প্রার্থীকে ভাঙিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই দলবদলকে অবৈধ ঘোষণা করার এবং গণনা প্রক্রিয়ায় এর প্রভাব যাতে না পড়ে, সেই দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
কমিশনে নালিশ কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, ফলাফল প্রকাশের আগে এভাবে প্রার্থীর দলবদল নির্বাচনী বিধিভঙ্গের সামিল। শুভঙ্কর সরকার কমিশনে আর্জি জানিয়েছেন যাতে দ্রুত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হয়। গণনাকেন্দ্রে ওই প্রার্থীর কাউন্টিং এজেন্টদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাত শিবির।
অস্থির মগরাহাট মগরাহাটে এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। তৃণমূল ও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত বচসার খবর পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল দিচ্ছে।
আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে ভোট গণনা শুরু হবে। ইভিএম খোলার আগেই এই নাটকীয় দলবদল মগরাহাটের নির্বাচনী সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।





