ভারতীয়দের কাছে সোনা কেবল অলঙ্কার নয়, বরং বিপদের সময়ের সবচেয়ে বড় সঞ্চয়। কিন্তু সোনা কেনা, গয়না গড়ানো বা বাড়িতে সোনা রাখার ক্ষেত্রে একাধিক সরকারি নিয়ম এবং করের (Tax) গেরো রয়েছে। সঠিক তথ্য না জানলে আপনার কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের বড় অংশ চলে যেতে পারে ট্যাক্স মেটাতেই। বিনিয়োগের আগে অবশ্যই জেনে নিন সোনা সংক্রান্ত এই গুরুত্বপূর্ণ ট্যাক্স ক্যালকুলেশন।
জিএসটি (GST) এবং মেকিং চার্জের অঙ্ক সোনা কেনার সময় মূলত ৩ শতাংশ জিএসটি (GST) দিতে হয়। তবে মনে রাখবেন, এই কর কেবল সোনার দামের ওপর নয়, বরং গয়না তৈরির মজুরি বা মেকিং চার্জের ওপরও ধার্য করা হয়। ফলে সোনার দোকান থেকে বিল নেওয়ার সময় জিএসটি-র ব্রেকআপ অবশ্যই দেখে নেবেন।
বাড়িতে কতটা সোনা রাখতে পারেন? আয়কর দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, আপনি যদি আপনার আয়ের উৎস দেখাতে পারেন, তবে সোনা রাখার কোনও উর্ধ্বসীমা নেই। কিন্তু হিসাব বহির্ভূত সোনার ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ ছাড় রয়েছে:
একজন বিবাহিত মহিলা ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনা রাখতে পারেন।
অবিবাহিত মহিলার ক্ষেত্রে এই সীমা ২৫০ গ্রাম।
পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সীমা মাত্র ১০০ গ্রাম। এই সীমার মধ্যে সোনা থাকলে তল্লাশির সময় আয়কর দপ্তর সাধারণত তা বাজেয়াপ্ত করে না।
সোনা বিক্রি করলে কতটা ট্যাক্স? সোনা কেবল কিনলেই হয় না, বিক্রির সময়ও সরকারকে ট্যাক্স দিতে হয়। একে বলা হয় ‘ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স’।
শর্ট টার্ম: সোনা কেনার ৩৬ মাসের মধ্যে বিক্রি করলে আপনার মোট আয়ের সাথে সেই লাভ যোগ হবে এবং আপনার স্ল্যাব অনুযায়ী ট্যাক্স দিতে হবে।
লং টার্ম: ৩৬ মাস বা ৩ বছর পর সোনা বিক্রি করলে ১২.৫ শতাংশ হারে লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স (LTCG) দিতে হয় (সাম্প্রতিক বাজেট নিয়ম অনুযায়ী)।
ডিজিটাল গোল্ড ও গোল্ড বন্ডের সুবিধা যারা ফিজিক্যাল সোনা বা গয়না না কিনে ডিজিটাল মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে চান, তাদের জন্য ‘সোভেরেন গোল্ড বন্ড’ (SGB) সবথেকে লাভজনক। এখানে গয়না তৈরির মজুরি বা লকার ভাড়ার খরচ নেই, উল্টে বছরে ২.৫ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যায়। সবথেকে বড় সুবিধা হলো, মেয়াদের শেষে এই বিনিয়োগ থেকে হওয়া লাভ সম্পূর্ণ ট্যাক্স ফ্রি বা করমুক্ত।
সোনা কেনার আগে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখলে আপনি কেবল আইনি জটিলতা থেকেই বাঁচবেন না, বরং আপনার বিনিয়োগও হবে আরও সুরক্ষিত ও লাভজনক। প্রতিটি মুহূর্তের এমন দরকারি খবরের জন্য নজর রাখুন আমাদের পাতায়।





