সঞ্চয়ের জন্য সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রিয় মাধ্যম হলো পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF)। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ এবং নিশ্চিত রিটার্নের জন্য অনেকেই এই সরকারি প্রকল্পের ওপর ভরসা রাখেন। কিন্তু ব্যস্ততার মাঝে যদি আপনি আপনার পিপিএফ অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম বার্ষিক টাকা জমা দিতে ভুলে যান, তবে আপনার অজান্তেই দানা বাঁধছে বড় বিপদ।
ন্যূনতম জমার অঙ্ক ও সময়সীমা পিপিএফ-এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি অর্থবর্ষে (১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে) একজন গ্রাহককে তাঁর অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে অন্তত ৫০০ টাকা জমা দিতেই হয়। আপনি যদি কোনো অর্থবর্ষে এই ন্যূনতম টাকা জমা না দেন, তবে আপনার অ্যাকাউন্টটি ‘ডিসকন্টিনিউড’ বা অকেজো হয়ে পড়বে।
কত টাকা জরিমানা? অ্যাকাউন্ট অকেজো হয়ে গেলে তা পুনরায় সচল করতে বড়সড় জরিমানা দিতে হবে না ঠিকই, তবে নিয়মটি জেনে রাখা জরুরি। প্রতি বছরের বকেয়া বা মিস হওয়া কিস্তির জন্য আপনাকে ৫০ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। অর্থাৎ, আপনি যদি ৩ বছর টাকা জমা না দিয়ে থাকেন, তবে ৩ বছরের জন্য ১৫০ টাকা জরিমানা এবং সেই ৩ বছরের বকেয়া ন্যূনতম জমার অঙ্ক (১৫০০ টাকা) একসাথে জমা দিতে হবে।
কী কী ক্ষতি হতে পারে? টাকা জমা না দিলে কেবল অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়াই নয়, আপনার আরও বড় কিছু আর্থিক ক্ষতি হতে পারে:
লোন ও উইথড্রল সুবিধা বন্ধ: আপনার পিপিএফ অ্যাকাউন্টটি যদি নিয়মিত বা সচল না থাকে, তবে আপনি ওই অ্যাকাউন্টের বিপরীতে কোনও লোন বা ঋণ নিতে পারবেন না। এমনকি মেয়াদ শেষের আগে আংশিক টাকা তোলার সুবিধাও বন্ধ হয়ে যাবে।
সুদের লোকসান: যদিও জমানো টাকার ওপর সুদ পাওয়া যায়, কিন্তু নিয়মিত টাকা না বাড়ালে আপনার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য বা রিটায়ারমেন্ট ফান্ডে লক্ষ লক্ষ টাকার ঘাটতি হতে পারে।
কীভাবে পুনরায় চালু করবেন? আপনার অ্যাকাউন্টটি যদি বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে চিন্তার কিছু নেই। নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা যেখানে আপনার অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেই ব্যাংকের শাখায় গিয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দিন। বকেয়া জরিমানার টাকা এবং ন্যূনতম জমার অঙ্ক মিটিয়ে দিলেই ফের সচল হয়ে উঠবে আপনার পিপিএফ অ্যাকাউন্ট।
মনে রাখবেন, সঞ্চয় মানেই হলো নিয়মানুবর্তিতা। তাই বড় লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে প্রতি বছর অন্তত ৫০০ টাকা জমা দিয়ে আপনার পিপিএফ অ্যাকাউন্টটি সচল রাখুন। প্রতিটি মুহূর্তের এমন দরকারি খবরের জন্য নজর রাখুন আমাদের পাতায়।





