ভোটযুদ্ধ শেষ, এবার নজর ব্যালট বাক্সে। তবে গণনার দিন যাতে এক ইঞ্চি জমিও বিরোধীরা না ছাড়তে পারে, তার জন্য আটঘাট বেঁধে ময়দানে নামল ঘাসফুল শিবির। শনিবার বিকেলে কালীঘাটে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলো এক হাইভোল্টেজ ভার্চুয়াল বৈঠক। রাজ্যের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে থাকা কাউন্টিং এজেন্টদের সরাসরি বার্তা দিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
“লড়াকু কর্মীদের সম্মান জানাবে দল”
বৈঠকের শুরুতেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের লড়াকু মানসিকতাকে কুর্নিশ জানান। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যারা বুথে বুথে লড়াই চালিয়েছেন, তাঁদের প্রতি বিশেষ বার্তা দেন তিনি। মমতা সাফ জানান, “ভোটের সময় যারা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই করেছেন, মার খেয়েছেন, এমনকি নানা বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, তাঁদের দল যথাযথ মর্যাদা দেবে। তাঁদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করা হবে।” নেত্রীর এই ঘোষণায় কর্মীদের মনোবল কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গণনাকেন্দ্রে এজেন্টদের জন্য কড়া নির্দেশিকা
আগামী ৪ঠা জুন গণনার দিন এজেন্টদের প্রতিটি মুহূর্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। বৈঠকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে:
গণনার প্রতিটি রাউন্ডে কড়া নজর রাখতে হবে।
একটুও সন্দেহজনক কিছু দেখলে বা হিসেবে গড়মিল মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে ‘পুনর্গণনা’ বা রি-কাউন্টিংয়ের দাবি তুলতে হবে।
আইনি পথে লড়াই করার জন্য প্রতিটি নিয়ম নখদর্পণে রাখতে হবে।
বিজেপি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আক্রমণ অভিষেকের
বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির রণকৌশল নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঢাল করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের মনে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি কিছু সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও সরব হন তিনি। অভিষেকের দাবি, তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েও মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন আটকানো যাবে না।
তাৎপর্যপূর্ণ মমতার উপস্থিতি
আগে ঠিক ছিল শুধুমাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই কাউন্টিং এজেন্টদের ক্লাস নেবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দলনেত্রীর স্বয়ং এই বৈঠকে যোগ দেওয়াকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গণনার দিন যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় শীর্ষ নেতৃত্ব যে সরাসরি ময়দানে থাকছেন, এই বার্তা দিয়েই দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে চাইলেন মমতা।





