শিক্ষকতা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সহজপাঠ্য জ্ঞানের জন্য জনপ্রিয় ‘খান স্যার’ এবার আইনি জালে। বিহারের প্রখ্যাত শিক্ষক এবং ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। একটি কোচিং সেন্টারে সহিংসতা এবং গুলি চালানোর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে গুরুতর মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তাঁকে খুঁজছিল।
অভিযোগ রয়েছে যে, কোচিং সেন্টারের গন্ডগোলের সময় খান স্যার তাঁর দেহরক্ষীদের গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং এর আগেই তাঁর দুইজন দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। ঘটনার পর থেকেই খান স্যারের ওপর আইনি নজরদারি বেড়ে যায় এবং তাঁকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ।
গত শুক্রবার রাতে খান স্যারকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের একটি বিশেষ দল তাঁর কোচিং সেন্টারে হানা দেয়। কিন্তু সেই মুহূর্তে তিনি সেখানে ছিলেন না। পুলিশের এই অভিযানের সময় কোচিং সেন্টারে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। পুলিশকে দেখে শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে কোচিং সেন্টার এবং তার আশেপাশের এলাকা খালি করে দেয়। সেই রাতে পুলিশের নাগাল এড়িয়ে গেলেও, শেষ পর্যন্ত আইনি চাপের মুখে তিনি আত্মসমর্পণ করলেন।
ঘটনাটি শিক্ষাঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। একজন শিক্ষক কেন এবং কী পরিস্থিতিতে দেহরক্ষীদের গুলি চালানোর নির্দেশ দিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ধারাগুলো অত্যন্ত গুরুতর। এখন আইন কীভাবে এই বিষয়ের ওপর পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। আপাতত খান স্যারকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।





