খড়গপুর জয়ের পরেই চমক দিলীপের! মিষ্টি নিয়ে ইকো পার্ক থানায় পৌঁছে কী করলেন বিজেপি নেতা?

তিনি সবসময়ই ছকভাঙা। রাজনীতির ময়দান হোক কিংবা ব্যক্তিগত জীবন— দিলীপ ঘোষ মানেই এক আলাদা মেজাজ এবং আত্মবিশ্বাস। ফলাফল যাই হোক না কেন, নিজের দলের প্রতি তাঁর আস্থা যেমন অবিচল, তেমনই তিনি বিশ্বাসী নিজের পুরনো রুটিনে। আর সেই আস্থায় ভর করেই এবার খড়গপুর সদরের মতো কঠিন এবং হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে পদ্ম ফুটিয়েছেন তিনি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব খড়গপুর সদরের গুরুদায়িত্ব তুলে দিয়েছিল তাঁর কাঁধে। সেই ভরসার মর্যাদা দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার ভোটের বিরাট ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।

জয়ের পরেই গেরুয়া আবিরে রাঙানো উৎসবে মেতেছিলেন কর্মী-সমর্থকরা। কিন্তু জয়ের পরের সকালেই এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল ইকো পার্ক চত্বর। দীর্ঘ নির্বাচনের প্রচারের ব্যস্ততায় তাঁর প্রাতঃভ্রমণের অভ্যাসে কিছুটা ছেদ পড়েছিল ঠিকই, কিন্তু ফলাফল বেরোনোর পরেই তিনি ফিরেছেন তাঁর চিরচেনা মর্নিং ওয়াক রুটিনে। তবে এদিন তিনি একা ছিলেন না, সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু ঘোষ। প্রাতঃভ্রমণ করতে করতে এদিন দিলীপ ঘোষ সটান পৌঁছে যান ইকো পার্ক থানায়।

থানায় যাওয়ার পথে দিলীপবাবুর হাতে ছিল একটি বড় মিষ্টির প্যাকেট। নির্বাচনে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে সোজা থানায় ঢুকে পড়েন তিনি। ডিউটিরত পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করার পাশাপাশি তাঁদের হাতে তুলে দেন মিষ্টির বাক্স। ভোটের সময় পুলিশের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের সম্পর্ক যতই উত্তপ্ত থাকুক না কেন, এদিন দিলীপ ঘোষের এই সৌজন্যমূলক আচরণে রীতিমতো অবাক পুলিশ কর্মীরাও।

খড়গপুর সদরের এই বিরাট জয় দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক কেরিয়ারে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর সেই জয়ের রেশ নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও আনন্দ ভাগ করে নিলেন তিনি। পুলিশের হাতে মিষ্টি তুলে দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, রাজনীতির লড়াই ময়দানেই সীমাবদ্ধ, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি আজও সেই পুরনো দিলীপ ঘোষ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy