লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল (১৩১তম সংশোধনী) পাসে ব্যর্থ হওয়ার পর শনিবার রাত ঠিক সাড়ে আটটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভাষণের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকা মোদী বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করে বিরোধীরা মহাপাপ করেছে। দেশের জনগণ এর সাজা দেবে।”
“নারীশক্তির উত্থান রুখে দেওয়া হয়েছে”
শুক্রবার সংসদের নিম্নকক্ষে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। এই ঘটনাকে দেশের মহিলাদের জন্য এক ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
বিরোধীরা নারীশক্তির বিকাশকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিয়েছে।
বিলটি পেশের সময় যারা লোকসভায় হাততালি দিয়েছিল, তারাই আজ এটি আটকে দিয়ে নারীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
মহিলারা আত্মসম্মানে এই আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া জোটকে তোপ
সরাসরি নাম না নিলেও কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটকে নিশানা করে মোদী বলেন, “বিরোধীরা নারীদের অধিকার হরণ করে তারপর উল্লাস করেছে। তারা ভাবছে নারী শক্তিকে সহজে ভুলিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর সচেতন মহিলারা প্রতিটি ঘটনার ওপর নজর রাখছেন।” তিনি অভিযোগ করেন, হীন রাজনীতির স্বার্থে এক মহৎ প্রচেষ্টাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে।
“লড়াইয়ের কেবল শুরু”
বিলটি লোকসভায় পাস না হলেও দমে যেতে রাজি নন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “এটি লড়াইয়ের শেষ নয়, বরং শুরু। বিজেপি এবং এনডিএ আপনাদের অধিকারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবে।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করেই আগামী নির্বাচনগুলোতে বিরোধীদের ‘নারী-বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরে দেশজুড়ে প্রচার চালাবে বিজেপি।
কেন বাতিল হলো বিল?
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে সংসদের বিশেষ অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস (Delimitation) নিয়ে বিতর্ক চলছিল। শুক্রবার ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়ে। সংবিধান সংশোধনীর জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় বিলটি শেষ পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়ে।





