বিশ্বশান্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের একবার উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলেন উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিম জং উন। রবিবার ভোরে কোরিয়া উপদ্বীপের আকাশে গর্জে উঠল কিমের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এই নিয়ে চলতি বছরে সাতবার এবং শুধুমাত্র এপ্রিল মাসেই চারবার মিসাইল পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া, যা কার্যত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাকে উসকে দিচ্ছে।
নিশানা কি জাপানের দিকে?
জাপান সরকার ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সূত্রে খবর, রবিবার ভোর ৬টা ১০ মিনিট নাগাদ উত্তর কোরিয়ার উপকূলীয় শহর সিনপো থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সোশাল মিডিয়া ‘X’-এ জানিয়েছেন:
ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (EEZ) ঠিক বাইরে গিয়ে আছড়ে পড়েছে।
জাপানি সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখার জন্য ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
সমুদ্রের জাহাজ এবং আকাশপথে বিমানের নিরাপত্তার জন্য জরুরি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠকের আগে শক্তিপ্রদর্শন?
কূটনৈতিক মহলের ধারণা, কিম জং উনের এই হঠাৎ আগ্রাসনের নেপথ্যে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক চাল। আগামী মাসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে এই মেগা বৈঠকের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন কিম।
নিষিদ্ধ পথেও অনড় কিম
রাষ্ট্রসংঘের কড়া নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কিম জং উন বারবার নিয়ম ভাঙছেন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) সতর্ক করে জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সক্ষমতা বর্তমানে আগের চেয়ে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিম নিজেই ঘোষণা করেছেন, তাঁর দেশ এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ‘পরমাণু শক্তি’, এবং এই অবস্থান থেকে তিনি এক চুলও সরবেন না।
এই ঘটনার পর জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়া যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। পিয়ংইয়ংয়ের এই একরোখা মনোভাবের পালটা জবাব দিতে মিত্র দেশগুলো কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।





