‘ক্ষমতা থাকলে পদ ছাড়ুন!’-নতুন দল নিয়ে ঋতব্রতকে চ্যালেঞ্জ কুণাল ঘোষের

নির্বাচনের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে গৃহযুদ্ধ চূড়ান্ত পর্যায়ে। দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গঠিত ‘বিদ্রোহী নব তৃণমূল’কে কার্যত ‘আবর্জনা’ বলে দেগে দিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। বুধবার সন্ধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে দলীয় বৈঠকের পর এই আক্রমণ শানান তিনি।

মদন মিত্রের অভিযোগ, যে ব্যক্তি দল থেকে বহিষ্কৃত, তিনি কীভাবে তৃণমূলের নামে বিরোধী দলনেতা হতে পারেন? তিনি বলেন, “তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা এখন তৃণমূলের নাম ভাঙিয়ে অন্তর্ঘাত করছেন। তাঁদের সাহস নেই প্রকাশ্যে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার, তাই এই নোংরা রাজনীতি করছেন।”

অন্যদিকে, কুণাল ঘোষ আরও এক ধাপ এগিয়ে ঋতব্রতকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “যাঁরা মমতার প্রতীকে জিতেছেন, তাঁদের যদি সত্যিই এত ক্ষমতা থাকে তবে বিধায়ক পদ ছেড়ে পুনর্নির্বাচনে লড়ে দেখান। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করার যোগ্যতা ঋতব্রতর নেই।”

পাল্টা সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের প্রশংসা করলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে আক্রমণাত্মক ছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমরা শ্রদ্ধা করি, তিনি দলের পরামর্শদাতা হিসেবে থাকতে পারেন। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো গুরুত্ব নেই। তাঁর জনসমর্থন নেই এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও নেই।”

নির্বাচনের পর তৃণমূল থেকে বিদ্রোহ করে ৫৮ জন বিধায়ক স্পিকারের কাছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মান্যতা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূলের ভাবধারা বহন করছেন। কিন্তু বর্তমান দলীয় নেতৃত্বের মতে, এটি পুরোপুরি পরিকল্পিত একটি চক্রান্ত, যা বিজেপির ইন্ধনে পরিচালিত হচ্ছে।

তৃণমূলের এই ভাঙন ও শীর্ষ নেতাদের এই বাক্যবিনিময় আগামী দিনে রাজ্যের বিধানসভার অন্দরে বড় কোনো অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy