কোমরে দড়ি, পরনে হাফপ্যান্ট! তৃণমূল যুব নেতার এই হাল দেখে তাজ্জব কাঁচরাপাড়ার মানুষ

শুক্রবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার আকাশ-বাতাস যেন হঠাৎ করেই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। চোখের সামনে যা দেখছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা, তা যেন সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। যুব তৃণমূল কংগ্রেসের শহর সভাপতি তথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় মুখ অভিজিৎ রায় ওরফে ‘বনি’কে কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরানো হচ্ছে—এমনই চাঞ্চল্যকর দৃশ্যে সরগরম হয়ে উঠল কাঁচরাপাড়া। স্যান্ডো গেঞ্জি ও হাফপ্যান্ট পরা অবস্থায় দলীয় নেতাকে এহেন শারীরিক অবস্থায় দেখে হতবাক হয়ে যান স্থানীয়রা।

ঘটনার সূত্রপাত:
সূত্রের খবর, কদিন আগেই মন্দারমণি এলাকা থেকে অভিজিৎ রায়কে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। শুক্রবার সকালে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় কাঁচরাপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে আসে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশের এই বিশেষ তল্লাশি প্রক্রিয়ার সময় অভিজিৎকে এভাবে দড়ি বেঁধে হাঁটানো হয়। সকালের ব্যস্ত সময়ে কাঁচরাপাড়ার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে যখন অভিযুক্ত নেতাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন রাস্তার দুপাশে ভিড় জমান স্থানীয়রা। কেউ বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে, এই ব্যক্তিই লোকসভা নির্বাচনের সময় ‘আমি বনি’ নাম নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছিলেন।

বিতর্কের ঝড়:
ঘটনার মুহূর্তটি মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করে ফেলেন অনেকেই, যা মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এই দৃশ্য দেখে এলাকা জুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একাংশ মনে করছেন, অপরাধ দমনে পুলিশের কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই পদ্ধতিকে ‘অতিরিক্ত কঠোরতা’ এবং ‘মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবেই দেখছেন। একজন অভিযুক্তকে এভাবে জনসমক্ষে দড়ি বেঁধে ঘোরানো কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়:
যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটেছে। দলের অন্দরে এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা থাকলেও, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে। বিজেপির দাবি, এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার। আইন আইনের পথে চলবে, কিন্তু বিচারের আগেই এইভাবে কাউকে অপমান করার অধিকার পুলিশের নেই। বীজপুর থানার পুলিশ এই ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, কাঁচরাপাড়ার এই ঘটনাটি যে রাজ্য রাজনীতির নতুন মোড় বা কোনো বড় বিতর্ক তৈরির ইন্ধন জোগালো, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy