নারী শক্তি কোনো দয়া নয়, বরং অধিকার। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে লোকসভায় দাঁড়িয়ে ফের একবার নারী সংরক্ষণ বিল (Nari Shakti Vandan Adhiniyam) নিয়ে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অতীতে যারা এই বিলের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, দেশের মহিলারা তাদের ক্ষমা করবে না—এদিন কার্যত এই সুরেই সুর চড়ালেন তিনি।
“ইতিহাস সাক্ষ্য দিচ্ছে…” প্রধানমন্ত্রী এদিন তাঁর ভাষণে কোনো রাখঢাক না করেই বলেন, দশকের পর দশক ধরে মহিলারা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সংসদে বিল আনার চেষ্টা হলেও বারবার তা ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বা আটকে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন:
“যারা মহিলাদের অধিকারের বিরোধিতা করেছে, তাদের কথা কেউ ভোলেনি। ইতিহাস সাক্ষী আছে, কারা সংসদে বিল ছিঁড়ে দিয়েছিল আর কারা আজ কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে সমর্থন দেখাচ্ছে। এদেশের নারী সমাজ সব মনে রেখেছে।”
মোদির ভাষণের মূল পয়েন্টগুলো:
ইচ্ছাশক্তির জয়: প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, যা আগে অসম্ভব ছিল, তাঁর সরকার তা সম্ভব করে দেখিয়েছে। তাঁর কথায়, “সংকল্প যখন সৎ হয়, তখন সাফল্য সুনিশ্চিত।”
সুযোগসন্ধানী রাজনীতি: বিরোধীদের প্রতি কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এককালে যারা এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করেছিল, আজ তারাই কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছে।
ভোটের অংক: রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর আগে মহিলা ভোটারদের নিজেদের পালে টানতেই পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে বিরোধীদের কোণঠাসা করতে চাইলেন মোদি।
মহিলাদের প্রতি বার্তা: মোদির মতে, পঞ্চায়েত থেকে সংসদ—সব জায়গাতেই মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোই তাঁর সরকারের লক্ষ্য। তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে সিংহভাগই মহিলারা, আর এবার আইনি অধিকার দিয়ে তাঁদের আরও শক্তিশালী করা হলো।
বিরোধী শিবিরে অস্বস্তি: প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণের পর বিরোধীদের অন্দরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপি যখন এই ইস্যুটিকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে তুলে ধরছে, তখন বিরোধীদের ‘পুরনো রেকর্ড’ মনে করিয়ে দেওয়াটা নির্বাচনী প্রচারে গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় হাতিয়ার হতে চলেছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।





