‘চাণক্যও স্তম্ভিত হতেন!’ নারী সংরক্ষণ বিলে কেন্দ্রের চাল দেখে কেন এমন বললেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী?

মহিলা সংরক্ষণ বিল (নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম) নিয়ে যখন গোটা দেশ উত্তাল, ঠিক তখনই এই বিলের কার্যকারিতা ও কেন্দ্রের উদ্দেশ্য নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। বিলটিকে নীতিগতভাবে সমর্থন জানালেও এর বাস্তবায়নের জটিল শর্ত দেখে কেন্দ্রকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, এই বিলের অংক এতটাই জটিল যে খোদ চাণক্যও দেখলে অবাক হয়ে যেতেন।

কেন ‘স্তম্ভিত’ হতেন চাণক্য? প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এদিন সংসদে বলেন, “আমরা এই বিলকে সমর্থন করছি, কিন্তু এর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে সীমানা পুনর্বিন্যাস (Delimitation) এবং আদমশুমারির (Census) মতো জটিল শর্ত। যদি বিজেপি সরকার সত্যিই মহিলাদের অধিকার দিতে চায়, তবে ২০২৯-এর কেন? কেন এখনই নয়?” তাঁর মতে, বর্তমান সরকার এমন এক ‘অদ্ভুত’ বিল এনেছে যা কার্যকর হতে বহু বছর লেগে যাবে। এই চতুর রাজনৈতিক কৌশলের দিকে ইঙ্গিত করেই তিনি বলেন, প্রাচীন ভারতের শ্রেষ্ঠ কূটনীতিক চাণক্যও হয়তো এই প্যাঁচ দেখে হতবাক হতেন।

প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যের প্রধান ৩টি পয়েন্ট:

  • অবিলম্বের দাবি: কংগ্রেস নেত্রীর দাবি, ২০১১ সালের আদমশুমারি যেহেতু করা হয়নি, তাই কেন বর্তমান পরিস্থিতির ভিত্তিতেই ৩৩ শতাংশ আসন এখনই মহিলাদের জন্য ছাড়া হচ্ছে না?

  • ওবিসি (OBC) কোটা: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিলে ওবিসি মহিলাদের জন্য পৃথক কোটার জোরালো দাবি তোলেন। তাঁর মতে, সমাজের অনগ্রসর শ্রেণির মহিলাদের বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ সম্ভব নয়।

  • নির্বাচনী গিমিক: তিনি অভিযোগ করেন, এটি কেবল ২০২৬ ও ২০২৯ সালের ভোটের আগে মহিলাদের মন জয়ের একটি রাজনৈতিক কৌশল। বিজেপি আসলে মহিলাদের অধিকার দিতে নয়, বরং ক্ষমতার অংক সাজাতে ব্যস্ত।

বিরোধীদের সুর: প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্যের পর বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র অন্য দলগুলোও সুর চড়িয়েছে। তাঁদের দাবি, কেন্দ্র যদি সদিচ্ছা দেখাত, তবে সীমানা পুনর্বিন্যাসের অপেক্ষায় না থেকে সরাসরি লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন নারীদের দিয়ে দেওয়া যেত।

মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী মোদী বিরোধীদের ‘বিপদ’-এর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তখন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই ‘চাণক্য’ কটাক্ষ দিল্লির রাজনৈতিক উত্তাপকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy